৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১


নগরজুড়ে মশার উপদ্রব

শেয়ার করুন

এমজেএইচ জামিল : নগরীতে চলছে উন্নয়নের মহোৎসব। উন্নয়নের ছোয়ায় পাল্টে যাচ্ছে নগরী। নবরুপে সাজছে জিন্দাবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। নগরীর প্রাণকেন্দ্র উন্নয়নের আলোয় আলোকিত হলেও নগরীর সব জায়গায় চলছে মশার দাপট। কিন্তু মশক নিধনে সিসিকের তেমন কোন উদ্যোগ না থাকায় নগরীতে ক্রমশই বেড়ে চলছে মশার দাপট।

জানা যায়, বসন্ত আসার এখনো সপ্তাহ বাকী, বিদায় নিতে চলেছে শীতও। কিন্তু এরই মাঝে নগর জুড়ে মশার উপদ্রব বেড়েছে বহুগুণ। সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে মশার উৎপাত বৃদ্ধি পায়। তবে গ্রীষ্ম-বর্ষা দূরে থাক, বসন্ত আসার আগেই বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। দীর্ঘদিন থেকে বৃষ্টিপাত না থাকায় ছড়া-নালায় ময়লা জমে আছে। ফলে সেসব স্থানে বাসা বেধেঁছে মশা। নগরীর প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই বেড়েছে মশার উৎপাত। মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলায়ও কয়েল জ্বালাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। সন্ধ্যার পর মশার উপদ্রব বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শীতকালে বাসা-বাড়ী অফিসে ফ্যান বন্ধ থাকায় মশা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশন মশা নিধন কার্যক্রম শুরু না করায় মশা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নগরবাসী।

নগরীর আম্বরখানা, কানিশাইল, শামীমাবাদ, শেখঘাট, চৌকিদেখী, জালালাবাদ, ফাজিলচিশত, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া, বন্দরবাজার, বারুতখানা, চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, কালিঘাট, ছড়ারপাড়, সোবহানীঘাট, মিরাবাজার, নয়াসড়ক, নবাব রোড, শামীমাবাদ, ভার্থখলা, কদমতলী সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে মশার উপদ্রবের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে ২০/২৫ দিন যাবত মশার উৎপাত বেড়ে গেছে বেশী। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সব জায়গায়ই মশার উৎপাত বেড়েছে। এমনকি ফুটপাত ও পাবলিক প্লেসেও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলছে না।

জানা যায়, মশক নিধনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন সময় নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বছরের মার্চ এপ্রিলে চলে বড় অভিযান। এছাড়া সারাবছর বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্তভাবে ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিস্কার পরিচ্ছন্না অভিযানের পাশাপাশি মশক নিধন অভিযানও চলে। তবে এবছর এমন অভিযান দেখা যায়নি। তবে সিসিকের পক্ষ থেকে আগামী সপ্তাহে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মো: জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এই মুহুর্তে মশক নিধনে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছেনা। তবে আমাদের ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সাথে মশক নিধন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবুও কেন যে মশার উৎপাত কমছেনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নগরীর আম্বরখানার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, মশার উপদ্রবে আমরা পুরো অতিষ্ঠ হয়ে আছি। দিনের বেলায় দোকানে কয়েল জ্বালিয়ে বসতে হয়। ফাজিল চিশত আবাসিক এলাকার গৃহবধু জাহানারা বেগম বলেন, মশার যন্ত্রণার কথা আর কি বলা লাগে। ফ্যান বন্ধ থাকায় মশা থেকে রক্ষা পেতে কয়েলই ভরসা।

সোবহানীঘাটের মিঠুন রায় বলেন, রাস্তার পাশে ড্রেনগুলো প্রায় ভরে গেছে। বৃষ্টি না থাকায় এসব স্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি ড্রেনগুলো মশার নিরাপদ বাসস্থানে পরিনত হয়েছে।

মদীনা মার্কেটের শরীফ আহমদ বলেন, শীতের মাঝে মশার উপদ্রব, অনেকটা মরার উপর খাড়ার ঘা এর মতো। কারণ এই সময়ে ফ্যান বন্ধ থাকায় কয়েল ছাড়া বিকল্প নেই।

শামীমাবাদের গৃহবধু বিউটি আক্তার সামিরা বলেন, মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলায় কয়েল জ্বালাতে হয়। আবার কয়েলের ধোয়ায় বাচ্চাদের এলার্জি সমস্যা হয়ে থাকে। তাই মশা থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সিসিক সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরী জুড়ে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। মশার উৎপাত বন্ধ না হলে উন্নয়ন ম্লান হবে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করে দেয়ার পরিকল্পনা শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে, না হলে মশার জ্বালাতন কমবেনা।

শেয়ার করুন