২ ফেব্রুয়ারি ২০২১
বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। সবুজে ঢাকা বনাঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিণত হচ্ছে। দখল ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বনভূমি। জানা গেছে, সরকারি বনাঞ্চল যেমন উজাড় হচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বেসরকারি পর্যায়ে বনভূমি। ঘরবাড়ি ও নানা ধরণের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে বনাঞ্চল। আবার বনজঙ্গল কেটে তৈরি করা হচ্ছে ফসলের জমি। আবার বনভূমির মধ্য দিয়ে সড়কপথ নির্মাণেও ধ্বংস হচ্ছে বৃক্ষসম্পদ। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, সরকারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবাধে দখল করছে প্রভাবশালীরা। অথচ বনবিভাগের লোকজন কার্যত অনেকটাই নির্বাক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
জানা গেছে, দেশে গেজেটভুক্ত বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার সাতশ’ একর। এর মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমি ৩৩ লাখ ১১ হাজার একর। এই সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে কমপক্ষে দেড় লাখ একর বেদখল হয়ে গেছে। আর এই অবৈধ দখলদারদের সংখ্যা ৮৮ হাজার দু’শ ১৫ জন। তাছাড়া মামলাজনিত জটিলতার কারণে বনভূমির প্রকৃত পরিসংখ্যান নেই বন বিভাগের কাছে। আরও উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে আটশ’ ২০ একরের বেশি বনের জায়গায় গড়ে ওঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা। একশ’ ৪০ জন দখলকারী অবৈধভাবে এগুলো গড়ে তুলেছে। এছাড়া, হাটবাজার, রিসোর্ট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৬ হাজার একশ’ ৪৯ একর বনভূমি দখল করেছে পাঁচ হাজার নয়শ’ ৮২ জন। অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হিসেবে এক লাখ ২৩ হাজার বনভূমি ব্যবহার করে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে ৮২ হাজার ৯৩ জন ব্যক্তি। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সিএস রেকর্ডমূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/ আরএস/ বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এছাড়া, এক নম্বর খাস খতিয়ান ভুক্ত বনভূমি জেলা প্রশাসক কর্তৃক অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভূক্ত হয়েছে। আর বনভূমির মধ্য দিয়ে সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করায় এইসব স্থাপনার আশেপাশে বনভূমি জবরদখলের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
বনভূমি বেদখলের যে মহোৎসব চলছে, এটা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু কীভাবে? এটি একটি বড় প্রশ্ন। [যদি রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তবে বলার কিছুই নেই। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি বনভূমি রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের ওপর দেয়া হয়েছে সেই বন বিভাগের লোকজনই বনাঞ্চল ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাই যদি হয় তবে রক্ষকেরা যাতে সত্যি সত্যি রক্ষকের ভূমিকা পালন করে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।] জানা গেছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান অচিরেই শুরু হবে। এই উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি দেশব্যাপী দীর্ঘদিনে গড়ে ওঠা বনখেকোদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেই আমরা আশাবাদী।