২ ফেব্রুয়ারি ২০২১


সিসিকের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের নতুন পালক ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের সাথে নতুন পালক জুড়ছে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’। সিলেট নগরীর প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।

নগরীর আম্বরখানা-চৌহাট্টা হতে বন্দরবাজার সড়কের ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ ও তারের জঞ্জাল সরিয়ে এ সড়ক সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। এ কাজের পাশাপাশি বন্দরবাজার এলাকার হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেটের জায়গায় প্রায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সিসিক। ইতোমধ্যে এই কমপ্লেক্স’ নির্মাণে নকশা প্রণয়নের কাজ করেছে ট্রায়াঙ্গল কনসালট্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর সাথে জড়িত আছেন সিলেটের সন্তান স্থপতি শাকুর মজিদ।

আম্বরখানা-চৌহাট্টা হতে বন্দরবাজার সড়ক সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন বিষয়ে সিলেটের সচেতন মহল বলছেন, সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদ এবং তারের জঞ্জাল সরালেও স্থানে স্থানে সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড রয়েছে। এসব সরাতে হবে এবং গাড়িপার্কিংয়ের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে সিসিকের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ ম্লান হয়ে যাবে। সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিং স্পেস গড়ে তোলার দাবি উঠেছে। ঢাকার বিভিন্ন শপিং মলের মতো প্রয়োজনে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ পার্কিং স্পেস ব্যবহার করা যেতে পারে বলে তাদের অভিমত।

‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণ বিষয়ে সিসিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি শুক্রবার নগরীর দরগাহ গেইটস্থ একটি হোটেলের সম্মেলনকক্ষে ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সামনে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মাণের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ বিষয়ক নানা তথ্য স্থিরচিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেটের বিশিষ্টজনেরাও উপস্থিত ছিলেন।

সিসিক সূত্রে আরও জানা যায়, হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সিটি সুপার মার্কেটের জায়গায় এই কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। এখানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থাকবে। দৃষ্টিনন্দন নাগরিক চত্বর রাখা হবে। যেখানে নগরবাসীর জন্য থাকবে বিনোদন, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন সুবিধা। থাকবে উন্মুক্ত উদ্যানও। এছাড়া, কমপ্লেক্সের মধ্যে থাকবে ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’। যেখানে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীকি উপস্থাপনা থাকবে।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তর্জনী উঁচিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, তার সেই তর্জনীর আদলে এই কমপ্লেক্সে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। থাকবে ‘বঙ্গবন্ধু প্লাজা’ নামে বহুতল বিপণী বিতান। যেখানে সিনেপ্লেক্স, অডিটোরিয়াম, ১ হাজার আসনের কনভেনশন হল, মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক স্মারক সংগ্রহশালা রাখা হবে। কমপ্লেক্সে থাকবে খোলা পার্ক, বইমেলা বা কুটিরশিল্প মেলা করার জন্য ৩৪২টি স্টল বসানোর সুবিধা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ। ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে’র ল্যাম্প পোস্টগুলো হবে সিলেটের ঐতিহ্য দুটি পাতা-একটি কুঁড়ির আদলে। পাশাপাশি হাসান মার্কেট ও লালদিঘী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ৬ তলাবিশিষ্ট মার্কেট নির্মাণ করা হবে।

সিসিক কর্তৃপক্ষ জানান, প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা হতে বন্দরবাজার সড়ক সম্প্রসারণ, রোড ডিভাইডার, ফুটপাত নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় ৮৬০ মিটার সড়ক উন্নয়ন, সড়কের উভয় পাশে ফুটপাতসহ ১৬৮ মিটার ড্রেন নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন কাঠামোসহ ১০৬০ মিটার রোড ডিভাইডার স্থাপন, ৬২টি সড়কবাতি ও ৩০টি বৈদ্যুতিক পোল স্থাপন করা হচ্ছে। গত শুক্রবার প্রকল্প কাজ সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সাথে নিয়ে উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি। নগরীর প্রাণকেন্দ্র এই সড়ককে যানজটমুক্ত একটি মডেল সড়কে পরিণত করতে ইতোমধ্যে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করে লালদিঘী মাঠে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গত ১ জানুয়ারি থেকে এ সড়কে রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

যানজট বিষয়ে কয়েকজন নাগরিক জানান, হকার উচ্ছেদ ও রিক্সা চলাচল নিষিদ্ধ করলেই এ সড়ক যানজটমুক্ত হবে না। সড়কের উভয় পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য যানজট সৃষ্টি হয়। প্রকৃত পক্ষে এ সড়ককে যানজটমুক্ত করতে হলে সিএনজি অটোরিক্সার স্ট্যান্ড এবং গাড়ি পার্কিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থা ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে’ করার দাবি জানান তারা।

শেয়ার করুন