৬ নভেম্বর ২০১৭


এমসি কলেজে কমিটি চায় ছাত্রলীগের কর্মীরা

শেয়ার করুন

এমসি কলেজ প্রতিনিধি : কবে হবে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের শাখা ছাত্রলীগের কমিটি? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের মাথায়। ৭ বছরেও কমিটি গঠিত না হওয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা।

ছাত্রলীগ নেতা উদয়ন সিংহ পলাশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১০ সালের ১৩ জুলাই বাতিল করা হয়েছিলো সিলেট মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি। এরপর ৭ বছরেও কমিটি গঠিত হয়নি। এ দীর্ঘ সময়ে এমসি কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। কমিটি না থাকায় কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগ নেতারা বারবার জড়িয়ে পড়ছেন সংঘাতে। যার বাস্তব চিত্র কয়েকদিন আগে এমসি কলেজ ছাত্রাবাস ভাঙচুরের ঘটনা।

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রাবাসের নয়টি কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ২০১২ সালের ৮ জুলাই এমসি কলেজে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের জের ধরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ছাত্রাবাসের ৪২ কক্ষ। এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের একটি পক্ষকে দায়ী করা হয়েছিল। পাঁচ বছর পরও অগ্নিসংযোগকারী চিহ্নিত না হওয়ায় বর্তমানে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তাছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সহিংসতায় অংশ নিচ্ছে ও মদদ দিচ্ছে বহিরাগতরা।

দীর্ঘদিন ধরেই এমসি কলেজে ছাত্র শিবির বা ছাত্রদলের প্রকাশ্যে তেমন কোনো কর্মকাণ্ড নেই। কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠন ছাড়া কেবল ছাত্রলীগের অবস্থানই ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান।
জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৩ সালে এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। দুই বছর মেয়াদী এই কমিটি স্থগিত করা হয় ২০০৭ সালে। এরপর আর এই কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি হয়নি।

২০০৩ সালে তাজিম উদ্দিনকে সভাপতি, সাইফুল ইসলাম টিপুকে সাধারণ সম্পাদক এবং পংকজ পুরকায়স্থকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিলো।

এদিকে দ্রুত কমিটি ঘোষণার দাবি জানাচ্ছেন এমসি কলেজের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

এমসি কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা জানান, টিলাগড়কেন্দ্রীক ছাত্রলীগের গ্রুপিংয়ের প্রভাব ফেলছে কলেজের রাজনীতিতে। যার ফলে বার বার সংঘর্ষ বাঁধছে, রক্তপাত হচ্ছে।

এমসি কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, টিলাগড়কেন্দ্রীক রাজনীতি যখন উত্তপ্ত হয় তখনই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমসি কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমসি কলেজে কোন কমিটি নেই। কমিটি না থাকার কারণে বহিরাগতরা বারবার কলেজ ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আর তাদের কারণেই বারবার সংঘর্ষ হচ্ছে।

এদিকে এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন জানান, ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে এবং এমসি কলেজে ছাত্রলীগের সঠিক নেতৃত্ব তৈরি করতে কমিটি শীঘ্রই উপহার দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের প্রতি জোর দাবী জানান। কেন্দ্রের আদেশে বন্ধ থাকা এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এমসি কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। যার কারণে সঠিক ছাত্ররাজনীতি থেকে এমসি কলেজের ছাত্ররা বঞ্চিত হচ্ছে। কমিটি না থাকায় বহিরাগতরা ক্যম্পাসে রাজনীতির নামে বিশৃঙ্খলা তৈরী করছে। ছাত্ররাজনীতির প্রাণ ফিরে আনতে খুব শীঘ্রই এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়ার জন্য তিনি কেন্দ্রের প্রতি অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে সাময়িক সময়ের জন্য এমসি কলেজের ছাত্রলীগের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

 

(আজকের সিলেট/৬ নভেম্বর/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন