২৮ জুন ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন কলোনি ও ছোট ছোট ভাড়াটিয়া বাসায় দেদারসে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ।
সিলেটের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও অন্যান্য জেলা হতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, বিয়ের নাম করে ও চাকরির প্রলোভনসহ নানা কৌশলে কিশোরী, তরুণী এবং যুবতী মেয়েদের নিয়ে এসে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন ভাড়াটিয়া বাসা ও কলোনিতে রেখে করানো হচ্ছে দেহ ব্যবসা। এসব কলোনিতে যেমন যাতায়াত আছে সমাজের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের, তেমিন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও। সব মিলিয়ে দক্ষিণ সুরমার কলোনিগুলো এখন অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আখড়া।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার কদমতলি, হুমায়ুন রশিদ চত্বর ও রেল স্টেশন এলাকার বিভিন্ন কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছে। কলোনিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বালুর মাঠ, বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পিছনের ও ফেরিঘাট এলাকার কয়েকটি কলোনি।
এছাড়াও সাগর নামে একজন দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িস্থ আতিয়া মহলে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অনেকদিন ধরে পতিতাদের দিয়ে দেব ব্যবসা করাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝে মাঝে এসব কলোনিতে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে জড়িত নারী-পুরুষদের গ্রেফতার করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৬ জুন) বিকাল ৫ টায় আলমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিপু কুমার দাসের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে নগরীর ২৭নং ওয়ার্ডের জামাল মিয়ার কলোনি থেকে ৪ পতিতা ও ১ দালালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলব থানার জইরাবাদ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে টিটন আহমদ টিটু (২৭), টিটুর স্ত্রী দিলরুবা আক্তার সুমি (২৫), সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থানার মনিপুরহাটি গ্রামের আলাল মিয়ার মেয়ে তানিয়া আক্তার (২০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আবুল হোসেনের মেয়ে ঝর্ণা বেগম (২০) ও একই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের শাহজানের মেয়ে মাছুমা আক্তার (২০)।
গ্রেফতারকৃত সবাই জামাল মিয়ার কলোনিতে ভাড়াটিয়া থেকে দীর্ঘদিন থেকে অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, অভিযানকালে পপি নামের এক পতিতা সর্দার পালিয়ে যায়। তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
দক্ষিণ সুরমায় ঘটিত অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিট পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বি এম আশরাফ উল্যাহ তাহের রবিবার (২৭ জুন) রাতে বলেন- শুধু দক্ষিণ সুরমা নয়, পুরো সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। যেখানেই অসামাজিক কার্যকলাপের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমার বিষয়ে আরো বেশি খোঁজ নিয়ে তদন্ত চালানো হবে।