১৮ ডিসেম্বর ২০২০
বিশেষ প্রতিবেদক : সিলেটে একে অন্যের প্রতিপক্ষ বিএনপি। ফলে রাজনীতির মাঠে দলীয়ভাবে দীর্ঘদিন কোনঠাসা রয়েছে এই সংগঠন। কোনো সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও নেই দলটি। কেন্দ্রীয় দু-একটি কর্মসূচি পালন করলেও শীর্ষ নেতাদের তেমন দেখা যায় না। এভাবেই নামমাত্র চলছে সিলেট জেলা বিএনপি। তবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তেমন সক্রিয় না থাকলেও নেতারা নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে ব্যস্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের।
নেতাকর্মীরা জানান, আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে সিলেট জেলা বিএনপি। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে গত বছর ২ অক্টোবর ২৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু সম্মেলন দূরে থাক, কোনো উপজেলায় কমিটিও গঠন করতে পারেনি। এমনকি আহবায়কের নিজ উপজেলায়ও কমিটি নিয়ে রয়েছে চরম দ্বন্ধ। আহ্বায়ক কমিটিতেও দেখা দেয় মতবিরোধ। আহ্বায়ক কমিটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
আহ্বায়ক কমিটির ১৬ জন একদিকে, বাকি নয়জন আরেক দিকে জোট বাঁধেন। অনেক দেনদরবারের পর ১৩ উপজেলা ও পাঁচটি পৌরসভার প্রত্যেকটিতে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়। কিন্তু এসব কমিটি নিয়েও জেলা আহ্বায়ক কমিটিতে বিরোধ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
নয়জনের জোট থেকে দাবি করা হয়, উপজেলা ও পৌর কমিটিগুলোতে তাদের পক্ষের কাউকে দায়িত্বে রাখা হয়নি। এ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে এবং সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হাসান জীবন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলনের কাছে অভিযোগও পাঠান। পরে কেন্দ্রের নির্দেশে কমিটিগুলোর প্রত্যেকটিতে ছয়জন করে সদস্য বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী উভয় পক্ষের লোক দিয়ে কমিটির আকার বাড়ানো হয়।
এরপর জেলার আহ্বায়ক কমিটির বিরোধ সাময়িক বন্ধ ছিল। কিন্তু আগামী বছরের জানুয়ারিতে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি ঘিরে ফের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
নয় নেতা মনে করছেন, আহ্বায়ক কমিটির বাকি ১৬ নেতার মধ্য থেকেই জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। তাই তারা এখন প্রকাশ্যে বিরোধিতায় নেমেছেন।
সম্প্রতি তারা সংবাদ সম্মেলন করে জেলার আহ্বায়ককে অযোগ্য ও অদক্ষ বলে মন্তব্য করে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশিক উদ্দিন আহমদ বলেন, কামরুল হুদা জায়গীরদার আহ্বায়ক হওয়ার পর থেকে সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদের নির্দেশনায় চলছেন।
এদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বাকি ১৬ নেতার পক্ষ ওই নয় নেতাকে বিপথগামী বলে অভিহিত করছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, যারা বিরোধিতা করছেন, তারা দলের ভালো চান না।