২৯ আগস্ট ২০২০
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : ওসমানীনগর উপজেলার খালেরমুখ বাজার থেকে তালতলা বাজার। দীর্ঘ ১ কিলোমিটার রাস্তা। পাকা হয়নি ৩০ বছরেও! নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ১০ গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। নির্বাচন আসলে এলাকার মানুষের খোঁজ পড়ে। হাজারো প্রতিশ্রুতি শুনে ভোট দানে নেমে পড়েন এলাকার মানুষ। নির্বাচন শেষ হলে তাদের দুর্দশার চিত্র পরবর্তনের কথা ভুলে যান জনপ্রতিনিধিরা! একটি মাত্র আশা আমাদের পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া রাস্তাটি এই পাকাকরণ চাই-এমন বক্তব্য এলাকার ভোক্তভোগিদের। তাদের একটিই দাবি এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা করে মুক্তি দিন।
জানা যায়, খালেরমুখ বাজার-তালতলা বাজার রাস্তা দিয়ে দিয়ে প্রতিদিন সহ¯্রাধীক মানুষের চলাচল। রাস্তার বেহাল দশা দেখলে মনে হবে যেন কৃষিক্ষেতের মাঠ। এক কিেিলামটিার রাস্তার কারণে ওসমানীনগর উপজেলার পূর্ব সীমান্তের জনপদের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে ডিজিটাল সরকারের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে। দিনমজুর, ব্যবসায়ি ও রোগীদের সেবা নিতে এই একটি মাত্র রাস্তা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাটের সমস্যার কারণে এ জনপদের মানুষ অন্য এলাকা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ছে।
বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার মধ্যখানে বড়ভাগা নদী। দুই উপজেলার মধ্য দিয়ে রাস্তাটির অবস্থান। একই রাস্তার বালাগঞ্জ উপজেলাধীন অংশ পাকাকরণ করা হলেও ওসমানীনগর উপজেলাধীন অংশ (এক কিলোমিটার) ইটসলিং কিংবা পাকাকরণ হয়নি ৩০ বছরেও! সচেতন মহলের প্রশ্ন এলাকায় কী কোন জনপ্রতিনিধি নেই?
দুর্ভোগে চলাচল করা গ্রামগুলো হচ্ছে, মোমিনপুর, মীরপুর, তালতলা, বশিরপুর, দৌলতপুর, বনগাও, জামালপুর, আজিজপুর ও নলজুড়সহ প্রায় ১০টি গ্রাম।
চরম ভোগান্তি নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন কিন্ডার গার্টেন থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কাদাপানি যুক্ত এ রাস্তা অতিক্রম করে যেতে হয়, প্রায় ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাথীদের।
আজিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামসুল ইসলাম বলে, গ্রীষ্মে ধুলা-বালি আর বর্ষায় পিচ্ছিল এই রাস্তায় চলাফেরা করতে আমাদের অনেক অসুবিধা হয়। কোন সময় স্কুলে আসতে পারি না।
মোমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাইয়ূম জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়। বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে চলাচল করতে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছে। রাস্তাটি পাকাকরণে আমি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ওসমানীনগর উপজেলা যুবলীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পল্লী চিকিৎসক এনামুল হক জানান, অনেকদিন থেকেই রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। নানান সমস্যার সম্মূখীন হকে হচ্ছে রোগীরা। রাস্তাঘাট ভালো না হলে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়-এখানে সেই একই অবস্থা। সিলেট-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি রাস্তাটি সংস্কারের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ময়নুল আজাদ ফারুক জানান, আমি আমার জায়গা থেকে অনেকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি এখন পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। আদৌ এই সমস্যার সমাধান হবে কি না আমার জানা নেই।
ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী বলেন, আমি সড়কটি দেখেছি। এলাকাবাসী যদি রাস্তার আইডি নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেন আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান জানান, গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখব। আমি অতিদ্রুত একজন প্রকৌশলী নিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করে আসব। রাস্তাটির সমস্যা অতিদ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।