৮ নভেম্বর ২০২০
দেশে বেকারের সংখ্যা কতো? এটি একটি অমীমাংসিত বিষয়। দেশে সঠিক সংখ্যা নেই বেকারত্বের। একেক সময় একেক তথ্য দেয়া হয়। তবে বেকারের সংখ্যা যে লাখে নয়, কোটিতে হিসাব করতে হবে এটা সম্ভবত কেউ অস্বীকার করবেন না। আর সেই সংখ্যা কয়েক কোটিই হবে বলে ধরে নেয়া যায়। তবে অতি সম্প্রতি বেকারের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে রীতিমতো বিস্মিতই হতে হয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের সর্বশেষ জনশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ছয় কোটি ৩৫ লাখ। এর মধ্যে কাজ করেন ছয় কোটি আট লাখ। সে হিসেবে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ। যা শতাংশ হিসেবে চার দশমিক দুই শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরো এই জরিপ পরিচালনা করে ২০১৭ সালে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে বেকারত্ব। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানও হচ্ছে। কিন্তু বেকারদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে এই বেকারের সঠিক সংখ্যা কতো, তা কেউ জানে না। সরকারি হিসেবের সঙ্গে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসেবের বিস্তর ফারাক। বেসরকারি হিসেবে বেকারের সংখ্যা কয়েক কোটি, আর সরকারি হিসেবে কয়েক লাখ। এর কারণও আছে। সহজ ভাষায় বললে এটাই হবে যে, সরকার হয়তো পলিসিগত কারণে বেকারত্বের হার কম দেখাচ্ছে। কারণ বেকারের হার বেশি থাকাটাই হচ্ছে সরকারের ব্যর্থতা। এখানে বলাই বাহুল্য যে, সরকারিভাবে বেকারের যে সংখ্যা দেয়া হয়েছে, সেটা ঠিক নয়। প্রকৃত বেকারের সংখ্যা আরও বেশি। [আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এক জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা তিন কোটি। তারা পূর্বাভাস দিয়েছে, বেকারত্ব বৃদ্ধির এই হার অব্যাহত থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই বেকারের হার দ্বিগুণ হয়ে যাবে। যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ হবে। আর আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার এই হিসাবটিকেই বাংলাদেশের প্রকৃত বেকারের সংখ্যা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞগণ।] আর বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য হচ্ছে বছরে কমপক্ষে ১৩ লাখ কর্মক্ষম মানুষ বেকারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে।
বিশ্বের কোন দেশেই বেকারত্ব থেকে মুক্ত নয়। উন্নত বিশ্বেও রয়েছে বেকারত্ব। তবে তাদের বেকারত্ব আমাদের বেকারত্বে পার্থক্য রয়েছে। উন্নত বিশ্বে বেকারদের ভাতা দেয়া হচ্ছে সরকারিভাবে। আমাদের দেশে সেটা নেই। বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে, যারা জনবলের অভাব থাকায় অন্য দেশ থেকে জনশক্তি আমদানী করে। আর আমাদের দেশের প্রচুর দক্ষ-অদক্ষ জনশক্তি রয়েছে; এদের বেশির ভাগই তরুণ। এই সুবিধা কাজে লাগানো যায়। তাই এই তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা জরুরি। আর সেটা করতে না পারলে এই জনশক্তি ‘বোঝা’ হিসেবেই আবির্ভূত হবে।