৬ নভেম্বর ২০২০
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া : সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কােম্পানীগঞ্জের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় পুরাে উপজেলাটি এখন অপরাধী ও ছিনতাইকারীদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। আর মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিরা এই রুটকে দীর্ঘদিন থেকে অনেকটা নিরাপদেই ব্যাবহার করছে। মাঝে মধ্যে দু’একটি অভিযান হলেও কিছুতেই যেন অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি সিলেটে আলােচতি রায়হান হত্যা মামলার মুল হােতা এসআই আকবর হােসেন ভুঁইয়া এই রুট দিয়েই ভারতে পালিয়ে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। আর এ হত্যাকাণ্ডে কােম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা সাংবাদিক নামধারী নােমান রয়েছে আত্মগােপনে। রায়হান হত্যা মামলায় আকরকে পালাতে সহায়তায় ইতােমধ্যে নাম এসেছে স্থানীয় চােরাকারবারি চক্রের হােতা হেলালের। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে হেলার সঙ্গে কীভাবে পুলিশের এসআই আকবরের সম্পর্ক হলাে।
অনেকে মনে করছেন- এসএমপির বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআইয়ের সাথে সীমান্ত এলাকা মাদক ব্যবসায়ীর সম্পর্ক হওয়ার কথা নয়। স্থানীয় পুলিশ বা কােনাে ব্যক্তি সে সম্পর্ক স্থাপন করে আকবরকে পালাতে সহায়তা করেছে। এরইমধ্যে কােম্পানীগঞ্জে ছিনতাইকারী চক্রের হাতে খুন হন জাকারিয়া নামের এক নিরীহ যুবক। পুলিশ আশিক মিয়া নামের একজনকে গ্রেফতারের পর আদালতে সােপর্দ করে। কিন্তু ঘটনায় জড়িত অন্যদের এখনাে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে আশিক এ ঘটনার অন্যতম আসামী বলে জানিয়েছ পুলিশ। সবমিলিয়ে কােম্পানীগঞ্জের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
ইতিমধ্যে জাকারিয়া নামের যুবক খুনের ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার করেছে আসামী আশিক মিয়া (১৮)। শুক্রবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক লায়লা মেহের বানুর আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারােক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে কোম্পানীগঞ্জ থানার কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, নরসিংদী জেলার রায়পুরার আলীনগর গ্রামের শাহানুর আলমের ছেলে জাকারিয়া সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের তৈমরনগর এলাকার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তিনি (জাকারিয়া) থানা বাজার হতে পায়ে হেটে টুকের বাজার যাওয়ার পথে কোম্পানীগঞ্জ ইসলামপুর কবর স্থান সংলগ্ন রাস্তায় আসামাত্র মটর সাইকেলে আসা তিন যুবক গতিরোধ করে পিঠের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে নগদ বিশ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ গুরতর আহত অবস্থায় জাকারিয়াকে উদ্ধার সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর জাকারিয়া মারা যান।
সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে কােম্পানীগঞ্জের ওসি নজরুল ইসলামকে বার বার ফােন করা হলেও তিনি ফােন রিসিভ করেননি।