৬ নভেম্বর ২০২০
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমদ মিছবাহসহ তার সহযোগী বোন হাজেরা খানম, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাহেনা বেগম, ছোট ভাই জালাল আহমদ ও তার অফিস স্টাফ রাহুল সরকার, এসএম ইকবাল হোসেন পীর ও সুরঞ্জন দাস গুপ্তকে আসামী করে জাল জালিয়াতি, প্রতারণা, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী রেহানা হাসান নাহার।
গত বুধবার সিলেটের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা এ মামলায় (সি আর মামলা নম্বর-১১৩৮/২০২০ইং) ফারুক আহমদ মিছবাহসহ অপরাপর আসামীগণের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অভিযোগ আনেন রেহানা হাসান নাহার।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে ফারুক আহমদ মিছবাহ রেহানা হাসান নাহারকে ফুসলাইয়া বিবাহের প্রলোভন দেখাইয়া তাহার সাথে বিবাহের অভিনয় করিয়া ঘর সংসার করিয়া আসিতে থাকা অবস্থায় বিগত ৩০/১০/২০০৬ইং তারিখে বাদিনীর গর্ভে ও ফারুক আহমদ মিছবাহর ঔরষে একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে যার নাম জিসান মাহি সানজিদ। বাদিনীর গর্ভে তৎপরবর্তিতে আবার সন্তান সম্ভবা হলে মিছবাহ তাহা এব্রশনের মাধ্যমে নষ্ট করেন। তৎপরবর্তিতে বাদিনীকে বিভিন্ন বাসায় রাখিয়া তাহার সাথে শারীরীক সম্পর্ক করিয়া আসিতে থাকা অবস্থায় বিগত ২/৩ বৎসর পূর্বা হইতে তাহাদের বিবাহের বিষয়টি মিছবাহ অস্বীকার করিলে বাদিনী বালাগঞ্জ আদালতে বালাগঞ্জ সিআর মামলা নং-২১/২০ইং দায়ের করিলে তাহা সিআইডিতে তদন্তাদিন অবস্থায় আছে।
এমতাবস্থায় মিছবাহ বাদিনীকে বিভিন্ন সময় মামলা উত্তোলনের জন্য হুমকি প্রদান করিয়া আসিতে থাকা অবস্থায় বাদিনীর বিরুদ্ধে তাহার আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর অর্থাৎ জালাল আহমদ এর স্ত্রী রাহেনা বেগম এর চেক ধারা মিছবাহর আপন বোন হাজেরা বেগমকে বাদী বানাইয়া এবং অপর আসামী রাহুল সরকারকে আমমোক্তার প্রদান করিয়া অপর আসামী এস.এম ইকবাল হোসেন পীর ও সুরঞ্জন দাস গুপ্তকে আমমোক্তারে সাক্ষী মানিত করিয়া জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বাদিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১২৩/২০২০ইং দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, যে চেক ধারা বাদিনীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেই ব্যাংকে বাদিনীর কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকিলেও শত্রুভাবাপন্ন হইয়া অত্র মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়াছেন। বাদিনী বিষয়টি জানিয়া আদালতে আসিয়া অত্র মামলার কাগজাত উত্তোলন করিয়া বাসায় যাওয়ার পথে মিছবাহ সহ অজ্ঞাতনামা লোকজন ধারা তাহার ছেলে অপহরণ করিয়া নিতে চাইলে বাদিনী বাধা দিলে বাদিনীকে শারীরীক ভাবে আহত করেন। তৎপর বাদিনী ওসমানী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করাইয়া আদালতে অত্র মামলা দায়ের করেন।
বাদী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট সোলেমান আহমদ চৌধুরী। আদালত থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার আইনজীবী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফারুক আহমদ মিছবাহ দুইবার সিলেট চেম্বারের সভাপতি ছিলেন এমনকি অপর একবার চেম্বারের সভাপতি থাকা অবস্থায় তাহাকে তাহার পদ থেকে পদচ্যুত করা হয়।