৩ নভেম্বর ২০২০
ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। কাউকে অর্থ দিয়ে, কাউকে অসুস্থতা বা রোগ দিয়ে আবার কাউকে বিপদে ফেলে। আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্য বা শুকরিয়া আদায় করার বিষয়টি আল্লাহ দেখেন। মানুষের মধ্যে তাকওয়া কতটুকু আল্লাহ তাআলার কাছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের সমাজে অনেক মানুষ রয়েছে গরীব। অর্থের অভাবে যারা ঠিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে না। তারা বিভিন্ন লোকের কাছে সাহায্য চান। আর যাদের হৃদয়ে তাদের জন্য মায়া জন্মায় তাদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে তাকেন।
শুধু এটা নয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিভিন্ন ভাবে দান করলে আল্লাহ বান্দার ওপর রাজি খুশি থাকেন। তবে লোক দেখানোর জন্য দান করলে কোনও সওয়াব হবে না। বর্তমানে এমন মানুষ আছেন, যারা প্রকাশ্যে লোক দেখানোর জন্য দান করেন। মানুষর প্রশংসার জন্য দান করেন। এমন দানে কোনও ফজিলত নেই। এমন দান-খয়রাত করতে হবে যে, আল্লাহ ছাড়া যেন আর কেউ না জানে। আর এ দানের ফজিলতও রয়েছে অনেক।
আল্লাহ বলেন- ‘যদি তোমরা দান-খয়রাত কর, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে দান করে দাও, তবে আরও বেশি উত্তম। দানের জন্য তিনি তোমাদেরকে পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সূরা বাকারা- ২৭১)
গোপনে দান করার ব্যাপারে হাদিসে অধিক ফযিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। গোপনে দানকারী কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নিচে ছায়ায় থাকবেন বলে হাদিসে বলা হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘কিয়ামত দিবসে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের নিচে ছায়া লাভ করবে। তাদের মধ্যে এক শ্রেণি হচ্ছে- এমন ব্যক্তি যারা এত গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কি দান করে বাম হাত জানতেই পারে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)
দান-ছাদকায় গুনাহ মাফ হয় ও মানুষ জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকে। নবী (সা.) বলেন- ‘হে কা‘ব বিন উজরা! নামাজ (আল্লাহর) নৈকট্য দানকারী, রোজা ঢাল স্বরূপ এবং দান-ছাদকা গুনাহ মিটিয়ে ফেলে, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে ফেলে।’ (আবু ইয়ালা, সনদ সহীহ) রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘খেজুরের একটি অংশ দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা কর।’ (বুখারি ও মুসলিম)
হাদিসে কুদসীতে নবী (সা.) বলেন, ‘আমি শিরককারীদের শিরক থেকে মুক্ত। যে ব্যক্তি কোন আমল করে তাতে আমার সাথে অন্যকে শিরিক করবে, তাকে এবং তার শিরকির আমলকে আমি পরিত্যাগ করব।’ (মুসলিম)
যারা মানুষের প্রশংসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে দান করবে, তাদের মাধ্যমেই প্রথমে জাহান্নামের আগুন জ্বালানো হবে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘সর্বপ্রথম তিন ব্যক্তিকে দিয়ে জাহান্নামের আগুনকে প্রজ্বলিত করা হবে। তাদের মধ্যে (সর্ব প্রথম বিচার করা হবে) সেই ব্যক্তির, আল্লাহ যাকে প্রশস্ততা দান করেছিলেন, দান করেছিলেন বিভিন্ন ধরণের অর্থ-সম্পদ। তাকে সম্মুখে নিয়ে আসা হবে। অতঃপর (আল্লাহ) তাকে দেয়া নেয়ামত দেখাবেন। সে তা চিনতে পারবে।
তখন তিনি প্রশ্ন করবেন, কি কাজ করেছ এই নেয়ামতসমূহ দ্বারা? সে জবাব দিবে, যে পথে অর্থ ব্যয় করলে আপনি খুশি হবেন এ ধরণের সকল পথে আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অর্থ-সম্পদ ব্যয় করেছি। তিনি বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এরূপ করেছ এই উদ্দেশ্যে যে, তোমাকে বলা হবে, সে দানবীর। অতঃপর তার ব্যাপারে বিচারের নির্দেশ দেওয়া হবে। তখন তাকে মাটিতে উপুড় করে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম)