২১ অক্টোবর ২০২০
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দ কৃত চাল নিলামে বিক্রি না করে শ্রমিক লীগ নেতাকে নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দাম ধরে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়ের বিরুদ্ধে।
কেবল তাই না, বর্তমানে চালের বাজারমূল্য যেখানে ৪৫ টাকার উপরে সেখানে ৩৭ টাকা কেজি দরে নিজেরা সকল চাল কিনে নিলেও শেষমেশ মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির হাতে পৌঁছেছে কেজি প্রতি মাত্র ৩৪ টাকা হিসেব ধরে। সব মিলে রক্ষকই যেন ভক্ষকের ভূমিকায় আবির্ভাব। আর এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন উপজেলার পূজা মণ্ডপ পরিচালনা কমিটি সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৫টি পূজা মণ্ডপে এবার পূজা উদযাপন হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে সরকারি ভাবে ৫ শত কেজি করে ১৭ হাজার ৫শ’ কেজি (সাড়ে ১৭ মে: টন) চাল বরাদ্দ আসে। বরাদ্দকৃত চাল স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রির নির্দেশনাও দিয়েছিলেন আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচুং আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান। কিন্তু উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় কাউকে না জানিয়ে নিজেই সিন্ডিকেট করে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উবায়েদুর রহমানকে নিয়ে ৩৭ টাকা কেজি দরে চালের মূল্য নির্ধারণ করে ১৭ হাজার ৫শ’ কেজি (সাড়ে ১৭ মে: টন) চাল নিজেই নিয়ে যান।
এদিকে, যদিও বর্তমান চালের বাজার মূল্য ৪২-৪৮ টাকা কেজি। তবে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ৩৭ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করে ৩৪ টাকা দরে পূজা পরিচালনা কমিটির নিকট দিয়ে মোট ৩৫ মণ্ডপের ১ হাজার ৫ শত টাকা করে ৫২ হাজার ৫ শত টাকার গায়েব করা হয় বলে অভিযোগ মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির।
কাকাইলছেও ইউনিয়নের পূজা পরিচালনা কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ৬ টি পূজা মণ্ডপের চাল স্থানীয় ব্যবসায়ী লায়েছ মিয়ার নিকট বিক্রি করার জন্য প্রতি কেজি ৩৯ টাকা নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে না জানিয়ে ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে।
সাবেক শ্রমিক লীগ সাধারণ সম্পাদক উবায়েদুর রহমান বলেন, সমজোতার মাধ্যমে ৩৭ টাকা দরে আমি ৮ হাজার ৫ শত কেজি (সারে ৮ মে: টন) ও প্রদীপ রায় ৯ হাজার কেজি (৯ মে: টন) চাল ক্রয় করি।
এদিকে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জীবন চন্দ্র চন্দ বলেন, আমরা চাল ৩৪ টাকা করে বিক্রি করেছি তারা কেন ৩৭ টাকা করে বলছে আমি বুঝতে পারছি না।
তিনি আরো বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে আমি নিষেধ করেছি ওই চাল না কেনার জন্য। কিন্তু সে আমার কথা রাখেনি।
আর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মতিউর রহমান খান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।