১ অক্টোবর ২০২০


কাউয়াদিঘি হাওরে ইঁদুরের উপদ্রব, হুমকিতে ধান উৎপাদন

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মনু প্রকল্পের আওতাধীন মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলায় এবার প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষাবাদ হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর পর এবার এতো বেশি জমিতে আমন চাষাবাদ করতে পেরেছেন কৃষকেরা। কাশিমপুর পাম্প হাউজ থেকে সদ্য নির্মিত নতুন ৮টি মেশিন দিয়ে পানি সেচ করায় এবার হাওর পাড়ের নি¤œ এলাকায় ধান রোপণ করতে পেরেছেন চাষীরা। অতীতে ওই পাম্পগুলোর বেশিরভাগ মেশিন অচল থাকায় বিশালাকার হাওরের জলাশয় থেকে মাত্র ৩০ শতাংশ পানি নিস্কাশন করা সম্ভব হয়েছিল। ওই সময়ে বাড়তি পানি হাওরে রেখে কিছু সংখ্যক অসাধু মৎস্য লুটেরা মাছ উৎপাদনের আশায় কৃত্রিমভাবে হাওরের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতো।

অন্যান্য বছর যে সমস্ত জমিতে কচুরীপানা ও আগাছা লেগে থাকতো, সেই জমিতে এখন রোপা আমনের উঠতি আগমনে সবুজে সবুজে মিশে গেছে সদর উপজেলার একাটুনা ও আখাইলকুড়া ও রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের একাংশ।

এবার আগে-ভাগে আমন রোপণ করায় কার্তিক-অগ্রহায়নে ধান কাটবেন কৃষকেরা। তবে ইঁদুর উপদ্রবে কৃষকের লক্ষ্যমাত্রাকৃত ধান ব্যাহত হতে পারে এবার। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আমন ফলন ভালই হয়েছিল কিন্তু শত শত ইঁদুর উঠতি ধান কেটে সাবার করছে এখন। সরকারিভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করে এসকল ভয়ংকর ইঁদুর নিধনের দাবী তুলেছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা।

রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুনামপুর ও কেশরপাড়া গ্রামের কৃষক আমীর আলী, নুরুল হক, জাকারিয়া, আনোয়ার মিয়া, আশাবুল মিয়া বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর এবার আমন চাষাবাদ বেশ ভালই হয়েছে। অতীতে হাওরের জলাবদ্ধতার কারনে ৫০ শতাশ জমিতেও চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি।

উমরপুর গ্রামের ময়না মিয়া বলেন, তিনি ১শ কেয়ার জমি আবাদ করে আমন চাষ করেছেন। কিন্তু সর্বনাশা ইঁদুর তার উঠতি ধান কেটে নষ্ট করছে। উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, হাওর পাড়ের ঘাগটিবিল ও গোয়ালী বিলের পাশে ২ থেকে আড়াইশো কিয়ার আমান চাষবাদ হয়েছে। ৭০ থেকে ৮০ শতাশ জমির ধান ইদুঁর কেটে শেষ করেছে। এখনই যদি ইঁদুর দমনের ব্যবস্থা না করা হয় তবে, ওই জমি থেকে ধান তোলা মুঠেও সম্ভব হবেনা।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী বলেন, নতুন পাম্প মেশিন স্থাপনের পর পানি নিস্কাসন করতে সরাসরি মনিটরিং করে ২৪ ঘণ্টাই মেশিনগুলোকে সচল রেখেছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার মৌলভীবাজার জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে রূপা আমন চাষাবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪শ হেক্টর। সব মিলিয়ে জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২শ ৮০ হেক্টর বেশি জমি আবাদ হয়েছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ লুৎফুল বারী বলেন, শুধু কাউয়াদীঘী ও তৎসংলগ্ন মনূ প্রকল্পে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। এবার ৬শ হেক্টর বেশি জমি আবাদ হয়েছে মনূ প্রকল্পে। মনূ প্রকল্পে ৫২ হাজার ৯শ মে.টন ধান পাওয়া যাবে এবার। ইদুর উপদ্রবে ধানের কেমন ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইঁদুর ধানের বেশ ক্ষতি করছে এমনটা আমরা জানতে পেরেছি। এসব ইঁদুর দমনে শিগরই আমরা কীটনাশক প্রয়োগ করবো।

শেয়ার করুন