১২ সেপ্টেম্বর ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : উপসর্গ থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা দেয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে একাধিক জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মেয়রের এমন আচরণে বিব্রত খোদ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও।
করোনা সংক্রমণ শুরুর পর নগরজুড়ে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে মাইকযোগে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানালেও মেয়র নিজেই তা লঙ্ঘন করায় ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিকরা। করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা দেয়ার পর থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে নির্দেশনা দেয়া হলেও তা মানেননি সিসিক মেয়র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে করোনা শনাক্তের নমুনা জমা দেয়ার পর ওইদিন দুপুরে তিনি একটি বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের আহ্বানে নগরের একটি অভিজাত হোটেলে মধাহ্নভোজে অংশ নেন। এরপর বিকেলে নগরভবনে উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি সভায়ও অংশ নেন। যেখানে নগরভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এসব অনুষ্ঠানেও স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি। এমনকি মেয়রের মুখে মাস্কও ছিলো না।
বৃহস্পতিবার রাতে মেয়র ও সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমানের করোনা শনাক্তের খবর জানার পর থেকে এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া সিসিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই নিজে থেকে হোম কোয়ারান্টাইনে চলে গেছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, মেয়র ও প্রধান প্রকৌশলীর করোনা শনাক্তের খবর জানার পর থেকে আমি নিজেই ভয়ে আছি। সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে কেবল আমার বোধ হয় এখন পর্যন্ত করোনা হয়নি। কিন্তু এ অবস্থায় অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দেয়াও আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। এতে নগর ভবনের কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
নমুনা জমা দেয়ার পরও কোয়ারেন্টাইনে না গিয়ে মেয়র ও প্রধান প্রকৌশলীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে বলা আমার জন্য বিব্রতকর। সকলেই দায়িত্বশীল লোক। সবারই স্বাস্থ্যবিধি মানা উচিত।