১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০


সিলেটে জনপ্রিয় হচ্ছে কেঁচো সার

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করায় রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে এ জৈব সার- নার্সারি, ছাদ কৃষি কিংবা ফল, ফুল ও সবজি চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফসল উৎপাদনে অধিক সহায়ক হওয়ায় কৃষকদের কাছে কেঁচো সার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এজন্য সিলেট অঞ্চলে এ সারের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার অল্প খরচে বেশি আয়ের সুযোগ থাকায় অনেক কৃষক এখন কেঁচো সার বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছেন। এদিকে ধীরে ধীরে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সিলেট কৃষি বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আশির দশকে ইউএনডিপি-রিউপা প্রকল্প এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে দেশে কেঁচো সার উৎপাদন চাষ শুরু করে। উত্তরাঞ্চল দিয়ে যাত্রা করা সারের সাথে মাত্র ৫-৭ বছর আগে সিলেট অঞ্চলের কৃষকরা পরিচিত হন। এরপর থেকেই সিলেটে কৃষি বিভাগ, ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রামের (এনএটিপি-২) মাধ্যমে বছরে একবার ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন এবং মাটির উত্তম স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। একদিনের এ প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতি উপজেলায় শতাধিক কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন করে ব্যক্তিগত ফসল চাষ করছেন। কিন্তু,এতোদিন তাঁরা বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদনের চিন্তা করেননি।

তবে, সম্প্রতি কেঁচো সার জনপ্রিয়তার মুখ দেখায় এবং লাভজনক হওয়ায় সিলেটের কয়েক উপজেলায় এ সার উৎপাদন ও বিপণনের চিন্তা করা হয়েছে। আপাতত কম সংখ্যক কৃষক এতে আগ্রহী হয়ে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকরা আগামী মাস থেকে বস্তাজাত এ সার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপণন করারও পরিকল্পনা নিয়েছেন।

কেঁচো সার উৎপাদন প্রণালী
প্রথমে পনের দিনের পরিত্যক্ত গোবর, কেঁচো এবং কলা গাছের টুকরো বা কচুরিপানা দিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে একটি পাকা রিং ভর্তি করা হয়। এরপর রিং যাতে না ভিজে সেজন্য ওপরে চাল দেয়া হয়। তারপর তাপমাত্রা এবং কেঁচোর বংশবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে ‘কেঁচো সার’ উৎপন্ন হবে। এ সার উৎপাদনের জন্য পাকার রিং হলে ভালো। নতুবা পলিস্টারের বস্তায় ভরেও কেঁচো সার উৎপাদন করা যাবে।

বাণিজ্যিক আয়
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন কৃষক ২০টি রিং ব্যবহার করলে প্রতি সেটে কমপক্ষে এক থেকে দেড় টন কেঁচো সার উৎপাদন করতে পারবে। কৃষকের প্রাথমিক পর্যায়ে এতে উৎপাদন খরচ হবে মাত্র ৮-১০ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিনাখরচে প্রতি সেট থেকে বিনাপ্রতিবন্ধকতায় একজন কৃষক গড়ে ২৫-৩০ হাজার টাকা উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। এভাবে যত বেশি রিং ব্যবহার করা হবে কৃষক তত বেশি লাভবান হবেন।

কেঁচো বিক্রি
প্রথমবার রিংয়ের মধ্যে দেয়া গোবর ও কলা গাছ বা কচুরিপানা খেয়ে কেঁচো বড় হয় এবং বংশবিস্তার করে। এভাবে এক রিংয়ে যতটুকু কেঁচো থাকে পরবর্তীতে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেঁচো বিক্রি করে প্রতি রিং থেকে মাসে আরো কমপক্ষে ৫শ’ টাকা আয় করা সম্ভব। অর্থাৎ ২০ রিং হলে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা উপার্জন হবে।

প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা
আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা রাসায়নিক জিনিসপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করা হয়। এজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিলে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তভাবে কেঁচো সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। নতুবা প্রশিক্ষিত না হলে সার উৎপাদনকালে কেঁচো মারা যেতে পারে। এছাড়া, বাণিজ্যিকভাবে বিপণনের সময় প্যাকেটিং করার ক্ষেত্রে আদ্রতা পরিমাপ করা জরুরি। প্রশিক্ষণ না থাকলে তা করা অনেকটা কষ্টসাধ্য।

সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মো. সালাহ্ উদ্দিন বলেন, কেঁচো সারে ফসলের উৎপাদন বেশি এবং খাবার সুস্বাদু হয়। তাছাড়া এটি লাভজনক। এজন্য আমরা এ সার উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। তিনি বলেন, কেঁচো সার জনপ্রিয় হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদনে অনেক শিক্ষিত নারী-পুরুষ কৃষক এগিয়ে এসেছেন। এ থেকে কৃষকরা যেমন স্বাবলম্বী হবেন, তেমনিভাবে আমাদের কৃষি অর্থনীতি অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন কৃষি অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা। তিনি কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে গণমাধ্যম কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন