২৮ জুলাই ২০২৩
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে : গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন রুস্তমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর ছাড়ারপার খালের উপর হেলে পরা চার পায়া ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ১০ গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষের ভাগ্য যেন আটকে আছে ভেঙ্গে যাওয়া এই সেতুতে। হেলে পড়ায় ও ৪টি পায়া ভেঙ্গে যাওয়া এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হতে হয় পথচারীদের। অথচ সেতু পূর্ননির্মাণ হলে বদলে যাবে এ অঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের ভাগ্য।
জানা যায়,ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর ছড়ারপার খালের উপর প্রায় ৩০বছর পূর্বে এনজিও সংস্থা কনসার্ন ও এলাকাবাসী সহযোগিতায় নির্মিত এই সেতু দিয়ে ইউনিয়নের বগাইয়া, লিডারবস্তি, মুসলিমপাড়া,বগাইয়া, দমদমা, তুরুং, পাহাড়তুলি, ভীতরগুল, ঝারিখালকান্দি, ছড়ারপার, আসামপাড়া ১০ গ্রামের মানুষজনসহ পাশ্ববর্তী উপজেলার কোম্পানিগঞ্জের হাজার হাজার মানুষ যাতায়ত করে থাকে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী ছড়ারপার খালের উপর সেতুটি পূর্ণনির্মাণ করা। এ জন্য তারা সরকারের বিভিন্ন মহলে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৪টি পায়া ভেঙ্গে পড়ে জরাজির্ণ ৪টি পায়ার উপর বিপদজনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। সেতুটি তুলনামূলক সরু হওয়ায় যানবাহন চালাচল করতে হয় এক লাইনে। যার কারণে উভয় পাশে হরহামেশা একটি সিএনজি পার হতে গেলেই উপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পাশাপাশি সেতুর উভয় পাশে রেলিং না থাকায় দূর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী। এমতাবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপারে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ ছাড়াও খালের দুই পাড়ে গড়ে উঠা স্কুল কিন্ডার গার্টেনের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসাসহ চার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এখানে একটি সেতু নির্মানের জন্য স্থানীয়রা দাবী জানিয়ে আসলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। তবে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে এনজিও সংস্থা কনসার্ণ ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় ৭০ ফুট দৈর্ঘ্য এই সেতুটি তৈরী হয়েছে।
তারা বলেন, এই সেতু দিয়ে পার হয়ে বাজার হাটে উপজেলা ও সিলেট শহরে যাওয়া আসা করেন।কুপার বাজার থেকে সেতুটি পর্যন্ত ও সেতু থেকে বগাইয়া দক্ষিণ পাড়া ঝারিখাল কান্দি পর্যন্ত ৩ কি. মি. এলজিইডি রাস্তা দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না করায় গর্ত হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে ও চলাচলে চরম ভোগান্তি বলে জানান তারা।
১নং রুস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, বগাইয়া হাওর ছড়ার পারের সেতুটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। বর্তমানে উপজেলার সেতুর লিষ্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আছে তাছাড়া মন্ত্রী মহোদয়ের নলেজে দেওয়া আছে এবং তিনি বলেছেন এই সেতুটি জরুরি দেওয়া হবে। এই সেতুটি জনগুরুত্বপূর্ণ যদি ভেঙ্গে পড়ে পশ্চিম এলাকাসহ কোম্পানিগঞ্জের সাথে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব। ১০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা কনসার্নের তৈরী সেতুটি। তিনি আরো বলেন ছড়ারপার রাস্তার মাথায় একটি সেতু নির্মাণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ এখানের সেতুটি পূর্ণনির্মান হলে কৃষি নির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তন হতে সময় লাগবে না।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রফিকুল ইসলাম বলেন, বগাইয়া হাওর ছরারপার নামক স্থানে সেতু নির্মাণ সময়ের দাবী। ইতিমধ্যে সেতুটির গুরুত্ব বিবেচনায় করে উপর মহলকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন প্রকল্প আসতেছে এর ভিতরে এই সেতুর লিষ্ট দিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন হলে আগামীতে হবে।।