১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০


বিলুপ্তির মূখে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও জলজ উদ্ভিদ

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে মৌলভীবাজারের দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম হাইল হাওরের বিলগুলো। ছোট বড় মিলিয়ে ১১৪টি বিলের মধ্যে এখন অর্ধেকও নেই। প্রতিনিয়ত বিল গুলো ঘিরে গড়ে উঠছে ফিসারী আর চির দিনের জন্য বিলিন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বিল ও দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশ। অন্যদিকে বেকার হচ্ছে মৎস্য জীবিরা। আর শহরের ময়লা আবর্জনায় দুষিত হচ্ছে এর যৎকিঞ্চিৎ ভাসান জলের পরিবেশ।

কাছাকাছি সময়ে হাইল হাওরের চইড়া বিল দখল করে ফিসারী করেছে ভুমি খেকোর দল এমন খবরে আমরা কয়েকজন প্রকৃতি প্রেমী ও গণমাধ্যমকর্মী হাওরে যাই। সেখানে দেখা হয় হাওর পাড়ের বাসিন্দা পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার রুকাম মিয়া, জুয়েল মিয়া, আকাশ মিয়াসহ বেশ কয়েকজন জেলের সাথে। তাদের কাছে চইড়া বিলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন চইড়া বিল এখন আর নেই। সেখানে ফিসারী ( হাইব্রীড মাছের খামার) হয়েগেছে। এসময় তারা ফিসারী গুলো দেখিয়ে দেন। আমরা দুটি নৌকা নিয়ে সেই ফিসারীর দিকে রওয়ানা হই। এ সময় আরেকটি নৌকায় দেখা হয় চইড়া বিলের ইজারাদার আনার মিয়ার সাথে।

পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনার মিয়া জানান, লাভের আশায় সরকারকে রাজস্ব দিয়ে তাদের সমিতির নামে চইড়া বিল লিজ নিয়ে ছিলেন দুই বছর আগে। প্রথম দিকে বিলে আসতে পারেন নি। কিছুদিন পর বিলে এসে তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেছে। চইড়া বিলের ৯০ ভাগ জমির উপর বিশাল ফিসারী। এটি করেছেন তার একই গ্রামের সফাত মিয়া। তিনি বলেন, প্রতিবাদ করতে গেলে তার উপর আসে হুমকি।

আনার মিয়ার সাথে কথা শেষ করে আমরা চইড়া বিলে সদ্যস্থাপিত ফিসারীর পাড়ে যাই। সেখানে দেখা হয় ফিসারীর এক পরিচালক সফাত মিয়ার চাচাতো ভাই পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার দিলু মিয়ার সাথে। এ বিষয়ে দিলু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা ভুমিহীনের জমি ক্রয় করে ফিসারী করেছেন। কিছু দিন পর আনার মিয়া এসে এটি চইড়া বিলের জায়গা জানালে তারা কাগজ দেখে জানাতে পারেন এটি লিজের জায়গা (চইড়া বিলের)। তখন তারা গ্রামের জনৈক মুকিত মিয়ার মারফত আনার মিয়াকে কিছু টাকা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আনার মিয়া জানান, তাকে কোন টাকা দেয় নি। এরা মিথ্যা বিলাপ করছে। তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন।

সরজমিনে দেখা যায়, চইড়া বিলের উপর ফিসারীর পাড়ে বেশ বড় বড় বৃক্ষ চারা। বেশ কয়েকটি টংঘর। এসেছে বিদ্যুৎও। নিমিষেই পরিবর্তন হয়েগেছে চইড়া বিলের দৃশ্যপট। অতচ দু বছর আগেও বর্ষায় এই চইড়া বিলের ভাসান পানিতে মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহন করতেন অসংখ্য জেলে।

এ সময় পশ্চিম ভাড়াউড়া এলাকার সুন্নত মিয়া নামে অপর এক মৎস্যজীবি জানান, এরা অন্যাায় ভাবে সরকারী জমির শ্রেণী পরিবর্তন করেছে। এদের ফিসারী করার কারনে হাওর সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে এই বিলে থাকা দেশীয় মাছের বংশতো শেষ হয়েছেই সাথে সাথে এই বিলে পাওয়া যেত বিভিন্ন প্রজাতীর জলজ উদ্ভিদ যা এই এলাকার কৃষকরা গবাধি পশুর খাবার হিসেবে সংগ্রহ করতেন। তিনি জানান, এই চিত্র শুধু চইড়া বিলে নয় হাওরের অধিকাংশ বিলই এখন ফিসারী। এই খাস জমির সরকার বেশ কিছু অংশ ভুমিহীন দের দিয়েছেন। কিন্তু ভুমি হীন সেখানে যেতে পারেনা।

সু-বিধাবাদীর দল ভুমিহীনের কাগজ সংগ্রহ করে তাদের সাথে দেখা করে কৌশলে তাদের কাছ থেকে জমিগুলো নিয়েনেয়। পরে এর সাথে খাস জমিগুলো তাদের আয়ত্বে নিয়ে ফিসারী করে। একই কথা জানান, নৌকার মাঝি সুইলপুরের সুলেমান মিয়া, পশ্চিম ভাড়াউড়া মুমিন মিয়া

শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ দপ্তর সম্পাদক মামুন আহমদ জানান, এই হাওরের হাজার হাজার একর বিলের জমি দখল করে ফিসারী করেছেন রাগব বোয়ালেরা। এরা এখন সমাজের মাথা।

শেয়ার করুন