২৮ আগস্ট ২০২০


ব্রিজ আছে, সড়ক নেই

শেয়ার করুন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : দুই পাশে সংযোগ সড়কবিহীন ব্রিজটি দাড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত। নেই সংযোগ সড়ক তৈরির কোনো উদ্যেগ। ব্রিজ আছে দুই পাশের রাস্তা নেই। এমন একটি ব্রিজের দেখা মিলেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সুরমা গ্রামের ঈদগাহের পাশে। পাহাড় থেকে নেমে আসা অলইলল্লা ছড়ার উপর নির্মিত এই ব্রিজটি কেন নির্মাণ করা হয়েছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্রিজটির পুর্ব ও পশ্চিম পাশে একশো গজের মধ্যে রয়েছে আরও দুটি কালভার্ট ও ব্রিজ। সেগুলো স্থানীয়রা ব্যবহার করেছে। কিন্তু সরকারি অর্থ অপচয় করে সংযোগ সড়ক বিহীন এই ব্রিজটি তৈরির কারণ কেউ বলতে পারছে না। স্থানীয়রা জানান, সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ চৌধুরী চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময় তার বাড়ির সীমানা প্রাচীরের পাশে ঈদগাহে সহজে আসা যাওয়ার সুবিধার্থে এই ব্রিজটি তৈরি করা হয়েছিল। ব্রিজটির পাশে থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে ব্রিজ এবং রাস্তার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ব্রিজটি শাহজাহান পুর ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড এবং ৫ নাম্বার ওয়ার্ডকে বিভক্তকারী পাহাড়ি একটি ছড়ার উপর নির্মাণ করা হয়। এর একপাশে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুরমা ঈদগাহ ও অপর পাশে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম। ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও বর্তমান শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ১ মো. বাচ্চু মিয়া মেম্বার) জানান, তখনকার সময়ে আমি ইউপি সদস্য ছিলাম না তাই ব্রিজটির সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারি না।

এব্যাপারে ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ২ মো. আবুল খায়ের মেম্বার জানান, সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ চৌধুরী চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ব্রিজটি নির্মাণ করেছিলেন। তখন রাস্তা ও তৈরি করা হয়েছিল।এলাকার মানুষের যোগাযোগের একটি ভালো ব্যবস্থা ছিল ব্রিজটি। পরে পাহাড়ী ঢলে রাস্তাটি ভেঙ্গে যায়। পাশাপাশি দু পাশের ব্যাক্তি মালিকানা জায়গা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। পরে কেউ আর রাস্তার দিকে মনোযোগ না দিলে শুধু ব্রিজ রয়ে যায়।

সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ চৌধুরীর জানান, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এই রাস্তা টি দিয়ে তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি হয়ে আর্দশ গ্রাম গুচ্ছগ্রাম, রতনপুর ও শাহজাহানপুর স্কুলের ছাত্র ছাত্রী সহ শত শত মানুষ যাতায়াত করত। তখন ব্রিজটি না থাকার কারনে আশে পাশের ৪/৫ টি গ্রামের জনসাধারণ চরম ভোগান্তীতে পড়তে হত।

ব্রিজ নির্মাণ করার কয়েক বছর পর পাহাড়ি ঢলে গাইটওয়াল সহ রাস্তার দুপাশ ভেঙ্গে পড়ে। তখন আমি আর চেয়ারম্যান পদে নেই। তার পর থেকেই কেউ আর এই রাস্তার দিকে মনোযোগ দেয়নি বলেই এই ব্রিজটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হক চৌধুরীর অফিস নাম্বারে একাধিক বার কল করলে কল রিসিভ করে নি।

শেয়ার করুন