২ আগস্ট ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর আম্বরখানা এলাকায় কয়েক হাজার চামড়া ফেলেছেন জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল হক শিরিন। এতে চরম দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েন ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতরত মানুষজন।
শনিবার দিবাগত রাতে জগন্নাথপুর থেকে কয়েক-হাজার চামড়া এনে তিনি আম্বরখানা এলাকায় নিজের প্লটে ফেলে রাখেন। এর পর সকাল থেকেই চামড়া পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বিষয়টি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে জানান। পরে আরিফুল হক চৌধুরী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে চামড়াগুলো সরিয়ে ফেলেন।
অভিযানকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলছেন, আমরা ঈদের আগের দিন বলেছিলাম, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানি বর্জ্য অপসারণ করবো। সেই ঘোষণা মোতাবেক আমরা ২৪ ঘণ্টার আগেই সিলেট নগরীর সকল কোরবানি বর্জ্য অপসারণ করি। এরপরও কোথাও বর্জ্য আছে কি-না দেখতে সকালে আমি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে যাই। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে আম্বরখানা এলাকায় বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে জানতে পারি। পরে আমি আমার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি জগন্নাথপুরের এক ইউপি চেয়ারম্যান এগুলো রাতে রেখে গেছেন। তখন আমি সেই চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, তিনি কেন এভাবে চামড়াগুলো রেখে গেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ কাজটি কিভাবে করলেন!
তখন তিনি আমাকে বলেছেন, চামড়া নদীতে ভাসিয়ে দিতে বা পুঁতে ফেলতে নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য তিনি আম্বরখানা এলাকায় নিজের জমিতে চামড়াগুলো রেখেছেন। এরপর আমি তাকে আবারও কাজটি ঠিক হলো কি-না জানতে চাই।
এর প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে বলেন, তাহলে চামড়াগুলো কি আমি নদীতে ভাসিয়ে দিতাম? আমার জায়গায় আমি চামড়া রেখেছি। এখন আপনি যা করার করতে পারেন।
মেয়র আরিফ আরও বলেন, আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং ঘটনাস্থলে বিমানবন্দর থানার ওসিও রয়েছেন। আমরা বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জানাবো। কারণ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের বারবার বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে এ সময় বর্জ্য যেন যথাস্থানে ডাম্পিং করা হয়। সেই মোতাবেক আমরা কাজ করেছি। অথচ তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এ কাজটি করেছেন।