১৬ জুলাই ২০২০
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : করোনাভাইরাসে থমকে আছে পুরো বিশ্ব। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। এখানেও চলছে অদৃশ্য করোনার তাণ্ডব। করোনায় প্রতিদিন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন। তবে আশার আলো হচ্ছে সুস্থ হচ্ছেনও মানুষ।
কিন্তু করোনার এ আশা-নিরাশার মধ্যে হতাশা আর ভোগান্তি নিয়ে হাজির হয়েছে মৌসুমি বন্যা। চলতি বছর দফায় দফায় টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগে এ নিয়ে দুবার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্ট হয়েছে।
প্রথমবার বন্যার পানি দ্রুত নেমে গেলেও সবশেষ বন্যার পানি এখনও নামেনি। কোথাও পানি বাড়ছে আবার কোথাও কমছে। এরমধ্যে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে একদিন পানি বাড়ে তো আরেকদিন কমে। বিশেষ করে বর্ষার বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেই হাওর এলাকায় পানি বাড়তে থাকে। একই সাথে বাড়ে নদ-নদীর পানিও। আর হাওর-বাওর আর নদীর পানি মিলে নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলো সমুদ্রের রূপ ধারণ করে।
ব্যতিক্রম নয় হাওর-বাঁওড়ের উপজেলা আজমিরীগঞ্জও। বৃষ্টির সাথে সাথে নদ-নদী আর হাওরের পানি বেড়ে সমুদ্রে রূপ নিয়েছে এ উপজেলা। এতে নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট আর চলাফেরার অসুবিধা বাড়লেও প্রকৃতি মেলে ধরেছে আপন সৌন্দর্য। সকালে সূর্যোদয়ে কিংবা সন্ধ্যায় সূর্যাস্তে সূর্যের লাল আভা হাওরের পানিতে পরে অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করে। মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেকে নিজের মতো করে সাজিয়ে রেখেছে।
সেই সাজানো প্রকৃতি উপভোগ করেতে প্রতিদিন নানা শ্রেণি-প্রেশার মানুষ ছুটছেন উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায়। এরমধ্যে ভ্রমণ পিয়াসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে আজমিরীগঞ্জ থেকে কাকাইলছেও ইউনিয়ন এবং আজমিরীগঞ্জ থেকে বদলপুর ইউনিয়নে যাওয়ার সড়ক।
উপজেলার এ দুই সড়কের উপর দিয়ে নদী থেকে হাওড়ে পানি প্রবেশ করছে। এতে সড়কের একপাশে পানি পড়ে ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই ঢেউয়ে সঙ্গে তাল মেলাতে মানুষও সড়ক থেকে লাফিয়ে পড়ছে। উত্তাল পানির এ ঢেউ যেন মানুষকে কক্সবাজারের স্বাদ দিচ্ছে। কেউ কেউ তো একে ডাকছেন ‘কক্সবাজার’। দিন যতই যাচ্ছে জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে হাওরাঞ্চলের এ ‘কক্সবাজার’।
বুধবার কথা হয় ঘুরতে আসা ঢাকার বাসিন্দা মাহমুদ মেহেদির সাথে, তিনি চাকুরির কারণে প্রায় ৯ মাস যাবত এখানে বসবাস করছেন। বিকেল বেলা হাটতে বের হয়ে প্রকৃতি এই রূপে তিনি মুগ্ধ। সেই মুগ্ধতার কথাও অকপটে বললেন মাহমুদ মেহেদি।
তিনি বলেন, চাকুরির ব্যস্ততা, ঘরবন্দির অবসাদ থেকে বেড়িয়ে গ্রামের এই নির্মল পরিবেশে এসে অনেক তরতাজা লাগছে। পৃথিবীর এই অসুখে ভালো থাকুক মানুষ। ভালো থাকুক প্রকৃতি।