১৪ জুলাই ২০২০
কামরুল ইসলাম মাহি : চলতি বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলেও ৫ এপ্রিল সিলেটে করোনাভাইরাসের রোগী চিহ্নিত হন। এরপর থেকেই সিলেটজুড়ে সংক্রমিত হচ্ছে হাজার-হাজার মানুষ। তবুও বৈশ্বিক মহামারিতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই স্বাভাবিক হচ্ছে বিভাগীয় শহর সিলেটের নগরজীবন।
প্রতিদিনই জীবন ও জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসছেন। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছেন সবাই। ফলে প্রতিদিনই সড়কে বাড়ছে মানুষের সমাগম। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে নগরজীবন।
২৬ মার্চ দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করে সরকার। এরপর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেকেই শহর চেড়ে চলে যান গ্রামে। তিন মাসেরও বেশি সময় ঘরে বসে থাকায় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় জীবন ঝুঁকি নিয়েই মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এখন। তবে করোনায় বদলে গেছে পূণ্যভূমি খ্যাত সিলেটের দৃশ্যপট।
নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শপিংমল ও মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশপথে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রসহ জীবাণুমুক্তকরণ মেশিন ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রেখে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। যারা বাইরে বের হচ্ছেন তারা মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভসসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তবেই বের হচ্ছেন।
শহরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, মদিনামার্কেট এলাকায় অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।
জিন্দাবাজার এলাকার অভিজাত শপিংমল আল-হামরা শপিং সেন্টারের বস্ত্রবিতানের কর্মী খালিদ হাসান বলেন, ‘প্রায় তিনমাস ধরে বাসায় ছিলাম। করোনার ভয়ে কাজে আসিনি। এখন বাধ্য হয়েই কাজে আসলাম। ঘরে বসে থাকলে অনেকটা না খেয়ে মরতে হবে।’
বেসরকারী ব্যাংকে কর্মরত আনিসুল হক মুন বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো প্রিয় বাংলাদেশও করোনা মহামারিতে আক্রান্ত। দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা থেকে মুক্তির প্রথম এবং প্রধান উপায় হচ্ছে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। সেগুলো মেনে যদি চলাচল করা হয়, তবে ঝুঁকি অনেকটাই কম বলে মনে করি। আর সেভাবেই জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে কাজ করা।’
এদিকে মানুষের পাশাপাশি ধীরে ধীরে রাস্তায় বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যাও। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় এখন অসংখ্য ছোটবড় যানবাহন। প্রাইভেটকার, জিপ, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্যাডেলচালিত রিকশা আগের তুলনায় বেড়েছে।
সিলেট মহানগরেরর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ বলছে, নগরের কিছুদিন আগেও সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু এ মাসের শুরু থেকেই রাস্তায় বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
অপরদিকে নগরের বেশকিছু ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসায়ীরা সারা বছর টুকটাক ব্যবসা করলেও অপেক্ষা করেন মূলত রমজানের ঈদের জন্য। এবার করোনার কারণে সেই বেচাকেনা হয়নি। গত মাস থেকে বিভিন্ন মার্কেটে সীমিত পরিসরে দোকান খুললেও বেচাকেনা ছিল না বললেই চলে। কিন্তু এই মাস থেকে ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। স্বাভাবিক হচ্ছে নগরজীবনের কার্যক্রম।