১২ জুলাই ২০২০
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে গত একমাস থেকে পল্লি বিদ্যুৎ নেই বললেই চলে। একমাসে গড়ে একসপ্তাহ্ মনে হয় বিদ্যুৎ থাকেনি। চরম ভোগান্তিতে থাকা উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলো হলো মুক্তাখাই, কাঠালিয়া, চাঁনপুর, উকারগাঁও, ঢালাগাঁও, কুতুবপুর, কিদিরপুর, কান্দাগাঁও, রামেশ্বপুরসহ আরো অনেক গ্রাম। শিমুলবাঁক ইউনিয়নের এ সকল গ্রামে বিদ্যুৎ যায় না বিদ্যুৎ আসে। বিদ্যুৎ সেবা ঠিক মতো না পেলেও ভুতুরে বিল কিন্তু আদায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ অঞ্চলের অধিকাংশ পল্লি বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দাবি মিটার রিডিং না করে কাল্পনিকভাবে বিলের পরিমান বসিয়ে মহামারীতেও মাইকিং করে বিল আদায় করা হয়। সবার মনে বিদ্যুৎ অফিসের এমন আচরণে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। করোনা কালীন এ সময়ে ২য় দফায় বন্যার কবলে মানুষ। বানের জলে অনেকের তলিয়ে গেছে মাথা গুজার ঠাঁইটুকুও। এ সংকটে ইচ্ছে থাকা সত্বেও কেউ যাতায়াত করতে পারছেননা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। তাই আত্মীয় স্বজন কিংবা পড়শীর খোঁজ নেয়ার বিশ্বস্থ মাধ্যম হতে পারতো মুঠোফোন। সে মোবাইল ফোনটিও বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জ করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা।
দেশে যেখানে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই, বিদ্যুৎ সেবা আরো উন্নত হওয়ার কথা। বরং দিন যত যাচ্ছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাঁক ইউনিয়নের অধিকাংশ এ সকল গ্রামে বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। এমনও লক্ষ্য করা গেছে আজানা কারণে সপ্তাহ্ খানেক পর বিদ্যুৎ আসলেও ৩/৪ ঘন্টা পর আবার চলে গিয়ে পুনরায় আসার নাম নেই। বিদ্যুৎ আসা বা যাওয়ার পেছনের কারণ কারো জানা নেই।
ভোগান্তির জন্য অনেককে বলতে শোনা গেছে,”বিদ্যুৎ অফিসের লোক এসে আমাদের বিদ্যুতের তার ও মিটার খুলে নিয়ে যাক,বিদ্যুৎ সংযোগ আর আমরা চাইনা।” নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বহু দিন বঞ্চিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এটি ভুক্তভোগীদের প্রাণের দাবি।