২৩ মার্চ ২০২১


সিলেট- ৩ আসনে উপ-নির্বাচন : আলোচনায় শফিক চৌধুরী

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে নানা সমীকরণ চলছে। আসন্ন এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা- সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

ইতিমধ্যে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে লন্ডন থেকেও আসছেন প্রার্থীরা। মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও বসে নেই। সাবেক দুর্গ ফিরে পেতে জাতীয় পার্টি মহাজোটগতভাবে এ আসনে প্রার্থী চাইছে। ইতিমধ্যে মহাজোটের প্রার্থীরাও সরব রয়েছেন। এ কারণে আসন্ন সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে জটিল সমীকরণ চলছে।

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। এ আসনটি সিলেট নগরের কাছাকাছি এলাকায় গুরুত্ব অনেক বেশি। এ ছাড়া শিল্পনগরী ফেঞ্চুগঞ্জও রয়েছে এ আসনে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে দক্ষতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তার মৃত্যুর পর এখন এ আসনটিতে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি এ আসনে প্রার্থী চাইছে। কারণ- সিলেটের ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে সিলেট-৩ আসনটিকে জাতীয় পার্টি তাদের দুর্গ হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ছিলেন আব্দুল মুকিত খান। এ কারণে ইতিমধ্যে মহাজোটের প্রার্থী হতে চাইছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলহাজ আতিকুর রহমান আতিক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। জাতীয় পার্টির নেতাদের মুখে এখন পর্যন্ত এই দুই প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে এক সময় জাতীয় পার্টির হয়ে ভোটের রাজনীতিতে সরব ছিলেন আতিকুর রহমান আতিক। পরবর্তীতে তিনি হবিগঞ্জের থিতু হয়েছিলেন। এখন আবার তিনি নিজ এলাকামুখী হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিস্ট সূত্রমতে, সিলেট-৩ আসনের আওয়ামী লীগের একাংশ চাইছে প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর পরিবার থেকে কাউকে প্রার্থী করতে। কারণ- পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে। এজন্য প্রথমেই তাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত এমপি’র স্ত্রী ফারজানা সামাদ চৌধুরী। তাকে প্রার্থী করলে আওয়ামী লীগের অনেকেই তাকে এ আসন ছাড় দিতেও প্রস্তুত বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

অপর দিকে এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট ২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। এই সময়ে এই আসনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বালাগঞ্জ উপজেলা। পরবর্তী দুটি নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীকে ছাড় দিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্ধিতা করেন নি। এমনকি সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান এই নেতা। দলীয় নেতাকর্মীরা দাবী করছেন দলের সার্থে বার বার ত্যাগ শিকার করা এই নেতাকে যেন সিলেট-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।

বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমায় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করেন- তিনি সিলেট ২ আসনের এমপি থাকা কালিন সময়ে বালাগঞ্জ উপজেলা তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভূক্ত ছিল। যে কারনে এই উপজেলায় তার একটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। সর্বপুরী তিনি প্রার্থী হলে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী অসম্পূর্ণ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

এদিকে, আসনটি শূণ্য ঘোষনা করার পর পরই বালাগঞ্জে দলীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া বাড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক এই এমপি। এতে করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছাস ফিরে এসেছে। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন স্বপ্ন দেখছেন সাবেক এই নেতাকে নিয়ে।

অন্যদিকে- সিলেট, লন্ডন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রায় এক ডজন নেতা ইতিমধ্যে এ আসনে প্রার্থী হতে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন- যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেটের পরিচিত মুখ ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা বারের পিপি এডভোকেট নিজাম উদ্দিন।

সিলেট-৩ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে সিলেট বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন- সিলেটের উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা সেটি দলীয় সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত হবে। দল সিদ্ধান্ত দিলে পরবর্তীতে আসবে প্রার্থীর কথা। এরপর প্রার্থী নিয়ে চিন্তা করা যাবে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী আজকের সিলেটকে বলেন, দলের প্রয়োজন নেত্রী আমাকে যখন যে এলাকা থেকে নির্বাচন করতে বলবেন আমি করব। দলীয় নেতাকর্মীদের ভালোবাসা নিয়ে আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবেই আজীবন কাজ করে যেতে চাই।

শেয়ার করুন