১২ জুলাই ২০২০


সিলেটে করোনায় মৃত্যুর সেঞ্চুরি

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে এক নারীসহ চারজনের।এদের একজন আইনজীবী। অপর দু’জন শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা।এদের মধ্যে নারী ও আইনজীবী শনিবার এবং শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা শুক্রবার মধ্যরাতে মারা যান।মৃতদের মধ্যে তিনজন সিলেটের প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং নারী নিজ বাড়ীতে আইসোলেশনে ছিলেন।মৃতদের দু’জন সুনামগঞ্জের এবং এবকজন করে সিলেট ও মৌলভীবাজারের বাসিন্দা। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০১জনে।

সর্বমেষ শনিবার দুপুর ১টার দিকে বিয়ানীবাজার উপজেলার পশ্চিম ঘুঙ্গাদিয়া নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান আনোয়ারা বেগম (৯০) নামে এক বৃদ্ধা।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু ইসহাক আজাদ বলেন, ২০ জুন ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২৭ জুন তার করোনা পজিটিভ আসে। এরপর থেকে তিনি হোম আইসোলেশনে ছিলেন। শনিবার বেলা ১ টায় দিতে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

স্বাস্ত্যবিধি মেনে ওই নারীর বাদ আসর মরহুমের জানাযা ও দাফন সম্পন্ন করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী টিম। ফাউন্ডেশনের উপজেলা মডেল কেয়ারটেকার মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমরা মরহুমার দাফন কাফনে সহায়তা করেছি।

শনিবার দুপুরে নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সুনামগঞ্জ সমিতি সিলেট’র সহ-সভাপতি, অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইছকড়ই গ্রামের বাসিন্দা এই আইনজীবী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সুনামগঞ্জ সমিতি সিলেট’র সদস্য কাশমির রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার জগন্নাথপুর উপজেলার ইছকড়ই গ্রামে মরহুমের জানাযার নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।

এর আগের দিন শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় সিলেট মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধানী অবস্থায় মারা যান মৌলভীবাজারের বড়লেখার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তবারক আলী (৭৮)। এরমধ্য দিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বড়লেখায় এই প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলো।

মারা যাওয়া ওই শিক্ষকের বাড়ি পৌরসভার বারইগ্রাম (মহুবন্দ) এলাকায়। তিনি ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। শনিবার সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই শিক্ষকের লাশ দাফন করেছে মৌলভীবাজার ইকরামুল মুসলিম ফাউন্ডেশন।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মারা যাওয়া ওই শিক্ষক করোনার উপসর্গ জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন।৬ জুলাই তিনি পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। গত ৮ জুলাই রাতে তাঁর নুমনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পজিটিভ আসে। পরদিন সকালে তার বাড়ি লকডাউন করা হয়।

তিনি বলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় শুক্রবার তাকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতেই তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শনিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে।তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে- হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তিনি মারা গেছেন। উপজেলায় এই প্রথম করোনা পজিটিভ হয়েই একজনের মৃত্যু হলো।

শুক্রবার রাত সোয়া ১টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সিলেটের নর্থ-ইস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহীন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। তিনি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বাগবাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিনি হার্টের সমস্যার পাশাপাশি তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, শনিবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৭৫৪ জনে।

শনিবার রাতে সিলেটের দু’টি ল্যাবে আরও ৪৩জনের করোনা সনাক্ত হয়। এরমধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে ৩২জন, যাদের সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা।আর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পিসিআর ল্যাবে সনাক্ত হওয়া ১১জন সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫হাজার ৭৯৭জনে।

এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৪জন, সুনামগঞ্জে এক হাজার ১৭৩ জন, হবিগঞ্জে ৮৯৩ জন ও মৌলভীবাজারের ৬৫৭ জন।

করোনায় নতুন আরো চারনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১০১ জন। মারা যাওয়াদের মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৭৭ জন, সুনামগঞ্জে ১০ জন, হবিগঞ্জে ৬ জন এবং মৌলভীবাজার জেলায় ৮জন রয়েছেন।

এছাড়া করোনা আক্রান্ত ২৪৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০০ জন, সুনামগঞ্জে ৪৪ জন, হবিগঞ্জে ৭৪ জন ও মৌলভীবাজারে ২৭ জন।

সিলেট বিভাগে ২ হাজার ১৩৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৬৫৯ জন, সুনামগঞ্জের ৭৮১ জন, হবিগঞ্জের ৩৬৭ জন ও মৌলভীবাজার জেলার ৩৩১ জন।

শেয়ার করুন