২২ জুন ২০২০


জমে উঠেছে তালের শাঁসের ব্যবসা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : করোনা সংক্রমণের সময়েও থেমে নেই মৌসুমী ফলের বাজার। এই সময়ের মৌসুমী ফলের মাঝে তালের শাঁসের পুরোপুরি সময় এখন। বিক্রেতারা স্থানীয়ভাবে এগুলো সংগ্রহের পাশাপাশি দেশের নানা জায়গা থেকে আমদানিও করছেন। পাকা তালের পূর্ব অবস্থাটির নামই হলো তালের শাঁস। এটি খেতে নরম, সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ।

শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে ছোট-বড় কাঁচা তালে ভরা বাজার। বাজারের ধারে, পাকা সড়কের পাশে, জনসমাগম বেশি এমন পথের ধারে এখন শোভা পাচ্ছে এ তাল ফল। টমটম গাড়িভর্তি করে স্থানীয় গ্রাম থেকে তালের শাঁস সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে।

নিজের গাছের তালের শাঁস বিক্রিকারী নরেন্দ্র দেবনাথ বলেন, পাকা তাল কাঠবিড়ালি খেয়ে ফেলে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বাড়ির তালের শাঁস বিক্রি করে দিই। একেকটা তাল গাছে প্রায় ১০টা থেকে ১৫-১৬টা ঝুরি থাকে। তবে এগুলো স্থানীয় ভাষায় আমরা পিসি বলি। একেকটা ঝুরিতে প্রায় ১০টা থেকে ২০টা তাল আটকে থাকে। তালের শাঁসের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে পুরো গাছ ৪-৫ শত টাকায় বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে।

তালের শাঁস বিক্রেতা আব্দুল জলিল জানান, তালের শাঁস হিসেবে কম মানুষই একে চেনে। অনেকেই বলে তাল, নয়তো বলে ডাব। প্রতি পিস বিক্রি করি ১০ থেকে ১৫-২০ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় ২-৩শ’ বিক্রি হয়। বাজারে লোক সমাগম বেশি হলে আরো বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

অপর ব্যবসায়ী দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এখন তো করোনা মৌসুম চলছে। মানুষ কম বের হচ্ছে বাসাবাড়ি থেকে। আগে তো দৈনিক ৪-৫শ’ টাকার তালের শাঁস বিক্রি করেছি। আমাদের বাজারে দু’রকম মাল (তালের শাঁস) রয়েছে- লোকাল মাল এবং আমদানি করা মাল। লোকালটা ছোট সাইজের এবং ভেতরের অংশও কম। আর আমদানী করা মালগুলো বড় সাইজের। ভেতরে মালও বেশি।’

নোয়াখালি, চাঁদপুর, যশোর, কুমিল্লা প্রভৃতি স্থান থেকে এগুলো আনিয়ে থাকি। স্থানীয় তালের তুলনায় আমদানি করা তালের চাহিদা বেশি বলে জানান দীন মোহাম্মদ।

তালের শাঁস কিনতে আসা রইস মিয়া জানান, প্রতি বছরই আমি এগুলো খাই। এগুলো খেতে নরম ও সুস্বাদু। তবে এখন করোনার মৌসুমে কিছুটা ভয়ে আছি। কিনবো কি না বুঝতে পারছি না।

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, সিলেট এর আঞ্চলিক প্রধান (ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা) ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম আহারযোগ্য তাল শাঁসে রয়েছে জলীয় অংশ ৮৭ দশমিক ৬ গ্রাম, ৮৭ কিলোক্যালরী, আমিষ শূন্য দশমিক ৮ গ্রাম, ফ্যাট শূন্য দশমিক ১ গ্রাম, শর্করা ১০ দশমিক ৯ গ্রাম, ফাইভার ১ গ্রাম, ক্যালশিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১ মিলিগ্রাম, ভিটামিন থায়ামিন শূন্য দশমিক ৪ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন শূন্য দশমিক শূন্য ২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন শূন্য দশমিক ৩ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সি ৫ মিলিগ্রাম।

এটি বিভিন্ন রোগ হতে দূরে রাখে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। করোনাকালীন এই সময়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব মৌসুমী ও সাইট্রাস জাতীয় ফলমূল বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দেন ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

শেয়ার করুন