৭ মার্চ ২০২০
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উদাসীনতা ও দায়িত্ব অবহেলায় শুধু মাত্র বোরো মৌসুমেই পতিত রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য বোরো ফসল জমি। বিষয়টি নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি ও কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীর উপর ক্ষুব্ধ রয়েছেন গোয়াইনঘাটের কয়েক হাজার কৃষি নির্ভর পরিবার। উপজেলায় কয়েক শতাধিক মাঠের পর মাঠ,হাওরের পর হাওর পতিত থাকলেও এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। জানা যায়, সেচ সুবিধা না থাকায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর বোরো চাষাবাদের উপযোগী জমি অনাবাদি রয়েছে। বুরো মৌসুমে উক্ত জমিতে চাষাবাদ হলে কয়েক হাজার দিনমজুর শ্রমিকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হতো। সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি মৌসুমে অন্তত ৩৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হতো জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের দামারী বিলে খালি পড়ে আছে বিস্তীর্ণ জমি। একই অবস্থা পাশের তোয়াকুল ইউনিয়নেরও।
ফুলতৈলছগাম, জাঙ্গাইল, পাইকরাজসহ সবকয়টি গ্রামের হাজার জমিতে এই মৌসুমে চাষাবাদ বন্ধ। এ ছাড়া পূর্ব জাফলং ইউনিয়নেও অনাবাদি পড়ে আছে বিলের পর বিল খাঁ খাঁ করছে। রুস্তুমপুর ইউনিয়ন, পশ্চিম জাফলং, লেঙ্গুরা,ডৌবাড়ী,আলীরগাওঁ ও ফতেহপুর ইউনিয়ন অনাবাদি রয়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমি।
নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল জানান, সেচের অভাবে এই ইউনিয়নে বোরো মৌসুমে ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমি অনাবাদী থাকে। সেচ সুবিধা পেলে এসব জমি দুই ফসলি হতে পারত।
জাঙ্গাইল গ্রামের কৃষক মান্নান ফারুক বলেন, সেচসুবিধা না থাকায় তাঁর তিন একর জমি পতিত পড়ে আছে। একই এলাকার জলিল হোসেন সাড়ে তিন একর জমিতে চাষ করতে পারছেন। ফলে তাঁরা শুধু আমন চাষ করেন। তাঁরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট উপজেলায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর। এর মধ্যে আমনে ২১ হাজার ৩২৫ হেক্টরে চাষাবাদ হয়। চলতি মৌসুমে বোরো চাষের আওতায় আনা হয় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল। সেচসুিবধা না থাকায় ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয় না।
গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আলী বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে আমনের এক–তৃতীয়াংশ চাষ হচ্ছে। অনাবাদ ১২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা গেলে ৩৮ হাজার মেট্রিক টন চাল বেশি উৎপাদন করা সম্ভব।
সেচ–সংকটের সমাধান প্রসঙ্গে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব বলেন, উপজেলায় প্রবাহমান পিয়াইন, সারী ও চেঙ্গের খালে রাবার ড্যাম নির্মাণ এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পানি সরবরাহের জন্য নালা তৈরি করা গেলে বিপুল পরিমাণ জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে কৃষকেরা সহজেই বোরো আবাদ করতে পারবেন।