১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০


যুববেকারত্ব বাড়ছে

শেয়ার করুন

বাড়ছে যুববেকারত্ব। যুবসমাজ একটা জাতির চালিকাশক্তি। অথচ এই যুবসমাজ যদি কর্মহীন হয়ে বসে থাকে তাহলে জাতির জন্য সেটা লজ্জার। দেশের জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশ তরুণ। এদের মধ্যে কমপক্ষে নয় শতাংশ বেকার; যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর। এই তথ্য বিশ্বব্যাংকের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, দেশে প্রায় ২৬ লাখ বেকার রয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশই যুবসমাজ। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদেরই যুবশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে, এই বয়সী ১৯ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী কোন কাজ করে না। তারা সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করারও সুযোগ পায় না। অথচ তারা সব সময়ই কোন না কোন কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকে। অবশ্য বিশ্বব্যাংক এ-ও বলেছে, বাংলাদেশের চেয়ে যুব বেকারত্ব বেশি এমন দেশের সংখ্যা অনেক। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ভারত, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান।
বিশ্বের জনগোষ্ঠীর মধ্যে যতো যুবক-যুবতী রয়েছে তার অর্ধেকের বেশি রয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে। বাংলাদেশে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। আর বাংলাদেশসহ বিশ্বের তরুণ সমাজের অর্ধেকের বেশি বাস করে দারিদ্র্যসীমার নিচে। আবার এদের মধ্যে অর্ধেক অক্ষরজ্ঞানহীন। এদের শিক্ষা, চিকিৎসার সুযোগ তেমন একটা নেই। এদের বড় একটা অংশই কর্মহীন। এখানে প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে যুবসমাজের ৩০ শতাংশই আমাদের অর্থনীতিতে কোন অবদান রাখতে পারছে না। জাতিসংঘ ১৯৮৫ সনে আন্তর্জাতিক যুববর্ষ পালন করে। প্রতিটি দেশের অপার সম্ভাবনাময় যুবশক্তিকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টিই এই যুববর্ষ পালনের লক্ষ। তাছাড়া, প্রতি বছর পয়লা নভেম্বর দেশে পালিত হয় জাতীয় যুব দিবস। প্রণীত হয়েছে জাতীয় যুবনীতি। সব মিলিয়ে দেশের যুবশক্তিকে যথাযথভাবে দেশের সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতিতে কাজে লাগানোই হচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যুবসমাজের কাছে সবচেয়ে বড় অভিশাপ হচ্ছে বেকারত্ব। তারপরে রয়েছে যুবসমাজের একটা অংশের সমাজ বিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া।
বিশ্বের প্রায় একশ’ ৮০ কোটি তরুণ-তরুণী কোন কাজ করে না। তারা পড়াশোনা কিংবা কোন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণও নিচ্ছে না। আগামী এক দশকে বিশ্বে কমপক্ষে একশ’ কোটি তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। আর বর্তমান শ্রম বাজারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা অনুযায়ী মাত্র ৪০ শতাংশ তরুণ-তরুণী কাজ পাবে। সুতরাং আগামী একদশকে বিশ্বকে আরও ছয়শ’ কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। তাছাড়া, ধনী দেশের তরুণ-তরুণীরাই বেশি বেকার। অর্থাৎ যুব বেকারত্ব বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই একটা বৃহৎ সমস্যা। মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বাংলাদেশও যুব বেকারত্ব মোকাবেলায় যথাযথ উদ্যোগ নেবে বলেই আমরা আশাবাদী।

শেয়ার করুন