১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : বড়লেখার উত্তর সুজানগর গ্রামের একটি সরকারী রেকর্ডিয় নালা (গোপাট শ্রেণী) ভরাট করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করেছে। এর আগে নালা সংলগ্ন বাসিন্দাদের লাগানো অর্ধলক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়েছে তারা। এতে পানি নিষ্কাশনের নালা ভরাট করায় গ্রামের অর্ধশত পরিবার জলাবদ্ধতার শিকার হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে এর জের ধরে এলাকায় যেকোন সময় সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের উত্তর সুজানগর গ্রামের সুজানগর মৌজার সাবেক দাগ ১২৭২ ও ১৩৮৮ নং হাল দাগের শতাংশ ভুমি সরকারী খাস খতিয়ান ভুক্ত। গোপাট শ্রেণীর এ ভুমি দিয়ে এলাকার বাড়িঘরের পানি নিষ্কাশিত হয়। নালার পাড়ের অর্ধ শতাধিক পরিবারের সদস্যদের বসবাস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালীরা সরকারী নালার শ্রেণী পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়। তারা সরকারী এ ভুমি জবর দখলের উদ্দেশ্যে গোপাট ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের পাঁয়তারা করে। সম্প্রতি স্থানীয় তারা দা, লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক নালা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করেছে।
এলাকার লোকজন জানান, সরকারী পাকা ও কাঁচা রাস্তা থাকা সত্বেও মাত্র ৩ পরিবারের যাতায়াতের জন্য নালা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের কোন প্রয়োজন ছিল না। এর জের ধরে যেকোন সময় সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস শুকুর ও তুতিউর রহমান জানান, গত বছরও তারা নালা ভরাটের চেষ্টা চালায়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করায় কিছুটা থামে। কয়েকদিন পূর্বে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা জোরপূর্বক নালা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করেছে। নালা সংলগ্ন আমাদের লাগানো ৩০টি গাছ কেটে নিয়েছে। এতে আমাদের পরিবারগুলো মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
আব্দুস শুকুর জানান, এ ঘটনায় তিনি প্রতিপক্ষের ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা করেছেন।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুসরাত লায়লা নীরা জানান, সরকারী নালা ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন।