১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০


মিসবাহ সিরাজ কি মন্ত্রী হচ্ছেন?

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক : মুক্তিযদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কেন্দ্র থেকে শুরু করে এখন সারা দেশে দলের মধ্যে চমকের গল্প চলছে। সিলেট আওয়ামী লীগে এখন চমকের গল্প! জেলা ও মহানগর সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় সম্মেলনেও নতুন নতুন চমক সৃষ্টি হওয়ায় সিলেট আওয়ামী লীগ কার্যত চমকের বন্যায় ভাসছে ।

মন্ত্রী দ্বন্ধের জেরে চমকের উপর চমক সৃষ্টি হচ্ছে। শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল মহানগর সাধারন সম্পাদক না হওয়াতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে এম আবদুল মোমেন ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের উপর বেজায় গোস্যা করেছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

মুহিতেরই এই গোস্যা নাদেলের জন্য শাপে বর হয়ে যায় । অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছ থেকে আদায় করে নিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। খোলে গেলো নাদেলের ভাগ্য! মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। মুহিতের এই জেদে কপাল পুড়লো নিশ্চিত সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়া ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীর।

সিলেটের ভাগ্যে আর কি চমক আছে? নেতা কর্মীরা এখন তা দেখার অপেক্ষায় । নতুন বছরের শুরুতেই সম্ভাব্য ১০ জানুয়ারী মন্ত্রী পরিষদে রদবদল হচ্ছে এমনটাই শোনা যাচ্ছে । মন্ত্রীসভায় আবারও যোগ দিতে যাচ্ছেন আবুল মাল আব্দুল মুহিত, এমনটা শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক অঙনে।

সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া দলের নবনির্বাচিত উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ইনাম আহমদ চৌধুরীও যোগ দিতে পারেন মন্ত্রী সভায়। নতুন চমক হিসেবে দলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপালনকারী এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হয়ে আসতে পারেন এমন গুঞ্জনও বাতাসে ভাসছে। আর সর্বশেষ পিপি থেকে বাদ পড়ার পর এই গুঞ্জুন আরো জোরালো হয়েছে।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা মনে করছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি দল ও সরকারকে আলাদা করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন এরই অংশ হিসেবেই দলের পরীক্ষিত নেতা মিছবাহ উদ্দিন সিরাজকে দলীয় পদবী ও পিপির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর তার জন্য সুখবর অপেক্ষা করছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক পদ হারানোর পর এবার সিলেট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) থেকেও বাদ পড়ছেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এর আগে ২০০৯ সালে পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় এক যুগ পর তাকে এবার এ পদ ছাড়তে হচ্ছে।

মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ১৯৭৭ সালে মদন মোহন কলেজে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিও হন। ১৯৮১ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতিও হন। পরবর্তী সময় ২০০২-২০০৮ সাল পর্যন্ত দুই দফা সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৯-২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি টানা তিনবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০০৯ সালে সিলেটের পাবলিক প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পান তিনি। ফলে সিলেটে দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করতে থাকেন মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আজকের সিলেটকে বলেন, দলীয় সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার আমার অভিবাবক। তিনি আমাকে যখন যেখানে কাজে লাগাবেন আমি সেখানেই কাজ কবর। ছাত্রজীবনের শুরু থেকে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছি। শত বাঁধা বিপত্তিতেও পিছপা হইনি। দলের প্রয়োজনে নেত্রী যেখানে কাজ করতে বলবেন আমি সেখানেই কাজ করব।

শেয়ার করুন