২৪ অক্টোবর ২০১৯


ফেসবুক না থাকলে কী হয়?

শেয়ার করুন

আবদুল মান্নান : ব্রিটিশ লেখক এইচ জি ওয়েলস উনিশ শতকের শেষের দিকে বিজ্ঞানভিত্তিক গল্প উপন্যাস লিখে খ্যাতি কামিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি লিখেছিলেন মানুষের চাঁদে যাওয়ার আর পাতাল জয়ের কাহিনি। ১৮৯৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তার কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস’ (The War of the Worlds)। গল্পের মূল বিষয় ছিল অন্য গ্রহ থেকে প্রাণিকুল এসে ব্রিটেনে আক্রমণ করলে কী পরিস্থিতি শুরু হবে, তার একটা কাল্পনিক কাহিনি। তার এই কল্পনাপ্রসূত উপন্যাসটি ওই সময় ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বেশ সমাদৃত হয়েছিল। পরবর্তীকালে এই কাহিনি নিয়ে অনেক নাটক-সিনেমা-টিভি সিরিয়াল নির্মিত হয়েছে। তার সবই খুব সমাদৃত হয়েছে। এর অনেক পরে ১৯৩৮ সালে এইচ জি ওয়েলসের সাড়া জাগানো কল্পকাহিনিটিকে নাট্যরূপ দেন মার্কিন নাট্যকার ওরসন ওয়েলস (Orson Welles)। আর তা প্রচারিত হয় সিবিএস রেডিওতে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের মোটামুটি ঘরে ঘরে রেডিও শোনা শুরু হয়েছিল। নাটকটি প্রচারের আগে ঘোষণা করা হয়নি নাটকটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাজারে মার্কিনিদের সম্পর্কে একটা কথা চালু আছে। তা হলো, তারা মিডিয়াকে খুব বিশ্বাস করে, বাস্তবে কী হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করে না। নাটকটি প্রচার হওয়ার সময় সারা যুক্তরাষ্ট্রে এক লঙ্কাকাণ্ড বেধে যায়। সবাই মনে করে সত্যি সত্যি বুঝি ভিনগ্রহের কোন প্রাণী এসে তাদের দেশকে আক্রমণ করেছে। এই লঙ্কাকাণ্ড থামানোর জন্য প্রশাসনকে ন্যাশনাল গার্ড ডাকতে হয়। ওরসন ওয়েলস এমন একটি ‘গুজব’ ছড়ানোর জন্য বেশ নিন্দিত ও সমালোচিত হন। কেউ কেউ বলেন, তিনি এমন একটা কাণ্ড করেছেন, রাতারাতি খ্যাতি লাভ করার জন্য। তিনি অনেকটা ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘গুজব’ ছড়ানো তার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। তবে খ্যাতি তিনি পেয়েছিলেন ঠিকই। লেখার শুরুতে দুই ওয়েলসের কাহিনি দিয়ে শুরু করার উদ্দেশ্য হচ্ছে—গুজব কতটুকু মানুষের ক্ষতি করতে পারে, তা বোঝানো। আর পরিকল্পিত গুজব শুধু ক্ষতিই করে না, মানুষ ও একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রভূত ক্ষতির কারণ হতে পারে। যার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ গত রবিবার (২০ অক্টোবর) ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে—এমন একটি গুজব ছড়িয়ে ভোলায় লঙ্কাকাণ্ড সৃষ্টি।

শেয়ার করুন