২৮ জুন ২০১৯

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের চারটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে পানি বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা বাজার ও আশপাশের এলাকা। তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর বড়দল ইউনিয়নের কলাগাঁও ও আশপাশের এলাকার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরের নিম্নাঞ্চল নবীনগড়, বনানীপাড়া, ষোলঘর, তেঘরিয়া, বড়পাড়া কাজির পয়েন্ট, বিলপাড়সহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী জানান, উপজেলায় পানি বাড়ছে। নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রণজিৎ চৌধুরী জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী বোগলাবাজার, বাংলাবাজার ও নরসিংহপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জানান, উজান থেকে ঢল নামছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণে পানি বাড়ছে। ঢলের পানিতে বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুঁইয়া জানান, সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় এই মৌসুমে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে ঢল নামায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জে বন্যা হয়ে যাবে। পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব জায়গায় সুরমা নদীর পানি তীর উপচে ঢোকেনি। পৌর শহরে যে পয়োব্যবস্থা আছে, এতে এত বৃষ্টির পানি ধারণ করার ক্ষমতা নেই। তাই পানি নামছে না। এ কারণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।