৪ জুন ২০১৯


চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক

সিলেট : নতুন জামায় ঈদকে রাঙ্গিয়ে তুলতে চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। সব বয়সী মানুষের ঢল নেমেছে সিলেটের বিপনী বিতানগুলোতে। মধ্যপ্রাচ্যে মঙ্গলবার ঈদ উদযাপনের খবরে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে কেনাকাটায়। চলছে তাড়াহুড়ো। তবে মাঝে মাঝে বৃষ্টি বাগড়া ছন্দপতন ঘটিয়েছে কেনাকাটায়।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় থেকে হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত সিলেটে বিরামহীন চলছে ঈদের কেনাকাট। মার্কেটে মার্কেটে যেমন ভিড় তেমনি বিকিকিনিও ভালো। তবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাজার করতে আসা ক্রেতারা। যানজট আর বৃষ্টি দুর্ভোগ বাড়িয়েছে তাদের। তবুও সেহরীর আগ পর্যন্ত চলছে ঈদ বাজার।

মঙ্গলবার দুপুর থেকেও নগরীর প্রায় সকল বিপনী বিতানে চলছে বিরামহীন কেনাকাটা।

জিন্দাবাজারের আলহামরা শপিং সিটি, ব্লুওয়াটার, সিলেট প্লাজা, কাকলী শপিং সিটি, শুকরিয়া মার্কেট, আহমদ ম্যানশন, কাজী ম্যানশন, সিলেট মিলেনিয়াম, লতিফ সেন্টার, সিটি সেন্টারসহ কয়েকটি অভিজাত বিপণিবিতান রয়েছে। এ ছাড়া জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও আম্বরখানা এলাকার বিপণিবিতানগুলোর মধ্যে কানিজ প্লাজা, করিম উল্লাহ, আল মারজান উল্লেখযোগ্য।

ওইসব বিপণিবিতানে যেমন ভিড়, তেমনি বিক্রি বাড়ছে। শুধু বড় বড় ওইসব মার্কেট নয়, নগরীর নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকার ফ্যাশন হাউস বা ব্র্যান্ডের দোকানের মধ্যে রয়েছে মাহা, ডিজাইনার, দেশি দশ, ইজি, এডিশন, বেবি শপ, এক্সটাসি, আড়ং, শৈল্পিক, রমণি, প্রবর্তন, মাম্মি, কমলা ভান্ডার, মনোরম, শী। এসব ফ্যাশন হাউস নজর কেড়েছে সিলেটের তরুণ-তরুণীদের। নয়াসড়কের মাহা ও জেল রোডের আড়ংয়ে ক্রেতাদের ভিড় চিল চোখে পড়ার মত।

সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে নগরীর জিন্দাবাজারের মার্কেটগুলোতে। এর পর রয়েছে ফ্যাশন হাউসপাড়া খ্যাত নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকা। পরের স্থানে বন্দরবাজার এলাকা। বন্দরবাজারে মধুবন ও হাসান মার্কেট ঘিরে মূলত জমেছে ঈদবাজার। লালদীঘির পাড়ের হকার্স মার্কেট হয়ে উঠেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কেনাকাটার স্থল।

সরেজমিন দেখা গেছে, মার্কেটে মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সব বয়সী মানুষের সব ধরনের পোশাকের জন্য হকার্স মার্কেটে ভীড় করছেন নি¤œ মধ্যবিত্তের লোকজন। শামসুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, সাধ্যের মধ্যে হকার্স মার্কেট থেকে কেনাকাটা করা যায়। এছাড়া বৃষ্টির কারণে ফুটপাতে বসা দোকানীরা পড়েছেন বেশি বিপদে। বৃষ্টির কারণে মালপত্র ঢেকে রাখতে হচ্ছে তাদের। বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাদ আছে এমন মার্কেট গুলোতে প্রচন্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে রাতে।

এদিকে, শেষে মুহূর্তে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষ পড়েছেন বৃষ্টি আর যানজটের কবলে। বৃষ্টি আর যানজটের কবলে পড়ে ঈদের বাজার করতে আসা অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

বৃষ্টির কারণে নগরীর রাস্তায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিপাকে পড়েন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষ। একদিকে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, অন্যদিকে রাস্তায় মাটি তোলার কারণে সপরিবারে ঈদ বাজার করতে আসা লোকজন পড়েন চরম বিপাকে।

আযাদ হোসাইন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটা করতে এসে বেশ বিপদে পড়ে গেলাম। বৃষ্টির কারণে ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন মার্কেটে ঘোরা যাচ্ছে না। এখন হয়তো এক জায়গা থেকেই সবার ঈদ বাজার করতে হবে।’

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মেজরটিলা থেকে জিন্দাবাজারের শুকরিয়া মার্কেটে আসেন জইন উদ্দিন। হাতভর্তি শপিং ব্যাগ। গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জে। আজ মঙ্গলবার তিনি বাড়ি যাবেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, ‘কাজের চাপে বেরোতে পারি না। আজ যখন বের হলাম তখন বৃষ্টি সব আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে। কেনাকাটা শেষ করে, ভালোয় ভালোয় বাড়ি যেতে পারলেই হল।’

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ঈদে সুতি কাপড়ের পোশাক চলছে বেশি। অ্যামব্রয়ডারি করা কাপড়, টিস্যু ও সুতার কারুকাজ করা কাপড়গুলোও চলছে বেশ।
জিন্দাবাজার সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বসে ৭-৮ বছর থেকে শার্ট-প্যান্ট বিক্রি করছেন নোয়াখালির আব্দুল আলিম মোল্লা ।

তিনি জানান, ‘বেচাবিক্রি আল্লায় দিলে ভালাই। তবে বৃষ্টি আইয়া শেষ করে দিছে। কাল যদি রোধ উঠে আশা করছি ভালো ব্যবসা হবে’।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে বিক্রি আরও ভালো হতো। মাঝে মাঝে বৃষ্টি এসে ক্রেতাদের সীমাহীন দুর্ভোগে ফেলে দেয়। অবশ্য বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে বলে জানান মধুবন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী রিয়াদুল হাসান রুহেল।

অপরদিকে যারা কাজের চাপ ও নানাবিধ ব্যস্ততায় ঈদের বাজার করতে পারেননি, তারা গতকাল সোমবার বিকেল থেকে বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে পছন্দসই পোশাকসহ কেনাকাটা করতে দেখা যায়। তাই সকাল থেকেই ভিড় দেখা যায় মার্কেটগুলোতে। আবহাওয়া বৈরী না হলে শেষ দিন ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

শেয়ার করুন