৩১ মে ২০১৯


হাওরে নেই ঈদের ‘আনন্দ’

শেয়ার করুন

আনিসুল হক মুন, শাল্লা

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলা। এই উপজেলায় পুরোটাই হাওরাঞ্চল ঘিরে। আসন্ন ঈদ-উল ফিতরে এই অঞ্চলের কৃষকের মাঝে ঈদ আনন্দ নেই। ধানের মূল্য কম হওয়ায় উপজেলার কৃষক পরিবারের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

এদিকে কৃষক পরিবারে ঈদ না থাকার চাপ পড়েছে ঈদ বাজারেও। ক্রেতাশূন্য ঈদ বাজারে মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদেরও। বিভিন্ন ধরণের জিনিস আর বাহারি সব কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসলেও কাঙ্কিত ক্রেতার দেখা মিলছে না।

উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে এ সময়টিতে জমজমাট বিকিকিনি হলেও এ বছর দেখা যাচ্ছে অন্য দৃশ্য। ঈদের বর্ণিল সাজে দোকানগুলো সাজানো হলেও ক্রেতা কম। কারণ একটাই- ধানের মূল্য কম। ঈদ এলেও তারা এখন চরম অসহায়। একদিকে হাতে নেই টাকা। তাদের ছেলে-মেয়েরা ঈদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার করলে তারা শুধুই আফসোস গুনছেন।

উপজেলার ইয়ারাবাদ গ্রামের কৃষক ওসমান মিয়া বলেন, কঠোর পরিশ্রম করে এবারে তিনি ৫কেয়ার জমিতে বোরোধান চাষ করেছিলেন। ফলনও ভালো হয়েছে। আর মাত্র কয়েকদিন পরই ঈদ। ঈদ আসার আগেই ধান ঘরে আসায় খুশি হয়েছিলেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ধানের বাজার মুল্যের কম থাকায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।

শুধু ওসমান মিয়া নয়, ঈদের আনন্দ মলিন হতে বসেছে শাল্লা উপজেলার কৃষক পরিবারে। এ বছর লোকসানের মুখে পড়ে কৃষিকাজে আস্থা হারাচ্ছেন শাল্লা উপজেলাসহ এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক। তাই লোকসান থেকে বাঁচতে সরকারের কাছে ধানের ন্যায্য মুল্যের দাবী জানিয়েছেন সাধারন কৃষকরা।

উপজেলার মনুয়া গ্রামের কৃষক আতাউর মিয়া বলেন, এ বছর ঋন করে বোরো ধান আবাদ করে প্রায় অর্ধেক টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। আগামীতে তিনি আর ধানের আবাদ করবেন না বলেও জানান। এই লোকসান তিনি পূরণ করবেন কিভাবে ? বছরে মাত্র একবার রমজানের ঈদ আসে। আসন্ন ঈদের বাজারে পড়েছে ধানের মূল্যের মন্দাভাব। ঈদে পরিবারের সবাই নতুন কাপড় পড়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি। এবার সেই ঈদ আনন্দ আমাদের নেই।

তিনি আরও বলেন, শুধু ঈদ বলেই নয়। ধান মারাই শুরু হলে স্থানীয় বাজার গুলোতে বিকিকিনি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর ঈদেও জমে উঠেনি শাল্লার ঈদ বাজার। ঈদকালীন ব্যবসা নিয়েও চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। ঈদের বাজারে এখনো ক্রেতার শুন্যতা বিরাজ করছে। বিগত দিনে রমজান শুরু হলেই ঈদের আগাম কেনা কাটা শুরু হয়ে যেত এ উপজেলায়। কিন্তু ধানের বাজারে মূল কমের প্রভাবে বাজার গুলো ক্রেতা শুন্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও (সদর) বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, আমাদের এ উপজেলায় ধান মারাই শুরু হলেই আমাদের বিক্রি বেড়ে যায়। কিন্তু এবছর ঈদেও আশানুরূপ ক্রেতা নেই বাজারে। ধানের দাম কম থাকায় কেনাকাটায় আগ্রহ নেই কৃষকদের। ঈদের জন্য বাহারি ডিজাইনের কাপড় নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এবারের ঈদের বাজার তেমন একটা জমবেনা বলেও মন্তব্য করেন এ কাপড় ব্যবসায়ী।

শেয়ার করুন