৯ এপ্রিল ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি

গোলাপগঞ্জ : ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, বিয়ে বাড়ি কিংবা সড়কে বিয়ের গাড়ি আটকিয়ে হিজড়াদের টাকা চাওয়া নতুন কিছু নয়। তাদের এই টাকা চাওয়ার ধরণ দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে। আগে এরা অনুরোধের সুরে টাকা চাইলেও এখন তা চাঁদাবাজিতে রূপ নিয়েছে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে গায়ে হাত দিয়ে নাজেহাল করে টাকা আদায় করছে তারা।
গোলাপগঞ্জের উপজেলার প্রতিটি বাজারে মাসে কয়েকবার হানা দেয় একটি হিজড়া চক্র। এদের হাত থেকে ক্রেতা বিক্রেতা কেউ রেহাই পায় না। কেউ টাকা দিতে না চাইলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। এমনকি গায়ে হাত দিতেও সময় লাগে না তাদের।
গোলাপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মাহমুদ জানান, বিগত দিনে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে টাকা চাইলে আমরা যা দিতাম তাই নিয়ে যেত। এখন অল্প টাকা দিলে তারা ব্যবসায়ী গায়ে হাত দিয়ে লাঞ্ছিত করে। এতে আমরা ভয়ে তাদের টাকা দিতে বাধ্য হই।
গোলাপগঞ্জ বাজারের আরেক ব্যবসায়ী জুবের আহমদ জানান, হিজড়াদের চাঁদাবাজি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের হাত থেকে ক্রেতারাও রক্ষা পায় না। তাদের এখনি থামানো না গেলে ভবিষ্যতে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
গোলাপগঞ্জ বাজারে আসা শাহ আলম নামের ক্রেতা জানান, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিয়ের গাড়ি আটকিয়েও হিজড়ারা টাকা চায়। মানসম্মানের কথা চিন্তা করে টাকা দিতে বাধ্য হয় বরযাত্রীরা।
গোলাপগঞ্জের সিএনজি অটোরিকশা চালক সুলেমান আহমদ বলেন, হিজড়ারা গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালে যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। কারণ তাদের সঙ্গে তর্ক করলে যাত্রীদের আরো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। তাই নিরুপায় হয়ে হিজড়াদের টাকা দিতে হয়।
এদিকে সোমবার সকালে হিজড়াদের একটি দল গোলাপগঞ্জ বাজারে টাকা উত্তোলন করতে আসলে বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ তাদের বাধা দেন। এসময় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা এস আই কাইয়ুমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ ও বণিক সমিতির বাধার মুখে এই হিজড়াচক্র চাঁদা না তুলে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আলেকুজ্জামান বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে ১০/১৫ জনের একটি হিজড়া দল গোলাপগঞ্জ বাজারে টাকা উত্তোলন করে আসছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে একটি হিজরা চক্র গোলাপগঞ্জ বাজারে টাকা উত্তোলন করছিল। এসময় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা আমায় জানালে আমি থানা প্রশাসনকে অবগত করি। পরে থানা প্রশাসনের সহযোগীতায় তাদের বাজার থেকে বের করে দেওয়া হয়।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী বলেন, গোলাপগঞ্জ বাজারে হিজরাদের চাঁদাবাজির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ তাদের বাধা দিয়ে বাজার থেকে সরিয়ে দেয়। ভবিষ্যতে এরকম চাঁদাবাজি করতে আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।