২৩ এপ্রিল ২০২২
শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : খননের মাধ্যমে প্রাণে ফিরে পেয়েছে নিতাইগাঙ্গ জলমহাল। হাওরাঞ্চলে জলমহাল ও জলাশয় খনন না হওয়ায় ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে হাওড়ের প্রায় ১০ থেকে ১২ প্রজাতির মাছ। সেই সঙ্গে কমেছে মাছের উৎপাদন। হাওড়ের এমন পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে মৎস্য অধিদপ্তর। হাওড়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ রক্ষায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিতাইগাঙ্গ জলাশয় ও বিল খনন প্রকল্পের আওতায় খনন করা হয়েছে। এতে মৎস্যজীবীরা পেয়েছেন তাদের পেশা ধরে রাখার পথ। কৃষকরা পেয়েছেন সেচ সুবিধা আর বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রেহাই।
সুনামগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের নিতাইগাঙ্গ জলমহালের ১.৫৭৯ হেক্টর ভূমি পুন খনন করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেন মৎস্য অধিদপ্তর। সেই ধারাবাহিকতায় নিতাইগাঙ্গ জলহালের সুবিধাভোগী কুমড়িআইল-তেহকিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি.এর সুফলভোগী সমিতির লোকজনদের দিয়ে জলমহালটি খনন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার হাওড়ে সুদিন ফিরে আসবে, বৃদ্ধি পাবে মাছের উৎপাদন। অন্যদিকে বিল ও জলাশয় খনন হওয়ায় জেলার হাজারও জেলে পরিবার নতুন স্বপ বুনছেন। তারা বলছেন, এইবার শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হবে না। জালে এবার ব্যাপক মাছ ধরা পড়বে।
তবে তারা বলছেন, জেলার প্রতিটি জলাশয় ও নদী খনন হলে আরও উপকৃত হতেন তারা। সেই সাথে রক্ষা পেত বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ।
পাথারিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের তেরাই মিয়া, তেহকিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ ও শিমুলবাক গ্রামের মহিম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার বিল খনন না করায় হাওড়ের অনেক প্রজাতির মাছও এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এবছর আমাদের এলাকার নিতাইগাঙ্গ বিল ও জলমহাল খনন হয়েছে, আশাকরি আগামীতে মাছের উৎপাদন বেশি হবে, বিলে মাছ বেশি ধরা পড়বে। আমাদের বোর মৌসুমে সেচ সুবিধাও পাওয়া যাবে। বিল খননে শিমুলবাক গ্রাম ও গোবিন্দপুর গ্রামের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুমড়িআইল-তেহকিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লি.এর সভাপতি নুর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মিন্টু কুমার দাস বলেন, আমরা মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। বিল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে আমরা ঠিকমতো মাছ চাষ করতে পারতাম না। অথচ প্রতি বছর ইজারামূল্য দিতে হতো। জলমহালটির একটি অংশে গত বছর প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়েছে। এবছর আরো একটি অংশে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুফলভোগীদের নিয়ে খনন কাজ করেছি। নিতাইগাঙ্গ জলমহালটি আগে যতবার বন্দোবস্ত নিয়েছি ততবারই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, কারণ আগে এই জলমহালের নাব্যতা ছিল না, পলি মাটি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাছ পাওয়া যেত না। এই বছর জলমহালটি খনন হওয়ায় আমাদের সমিতির লোকজন আগামীতে লাভের মুখ দেখব, আগের তুলনায় এখন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল জানান, জলয়াশয়গুলো খনন হওয়ায় হাওড়ে যেমন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বিলুপ্ত প্রজাতির মাছও রক্ষা করা যাবে। জলাশয় খননের ফলে উপকারভোগী সমিতির লোকজন সহ মৎস্যজীবি লোকজন লাভবান হবেন। দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন বাড়বে এবং অন্যদিকে কৃষকদের তাদের কৃষি জমিতে সেচ দিয়ে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব হবে।