১৩ এপ্রিল ২০১৯


এখনো ব্যবহার হচ্ছে ঝুলন্ত পায়াখানা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ

শেয়ার করুন

উপজেলা প্রতিনিধি, শাল্লা

সুনামগঞ্জ : দুর্গম হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় এখনো দেদারছে ব্যবহার হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ঝুলন্ত পায়খনা। এসব খোলা পায়খানার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শাল্লা উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

শাল্লা উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া ২০১৭ সালের তথ্য মতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯হাজার ৯শ’ ৬৪টি পরিবার, ঝুলন্ত পায়খানা ব্যবহারকারীর ২হাজার ৬শ’ ৬১টি পরিবার।

এরমধ্যে আটগাঁও ইউনিয়নে অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩হাজার ৩২টি, ঝুলন্ত পায়খানা ব্যবহারকারী ৭শ’ ১৫টি পরিবার। হবিবপুর ইউনিয়নে অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১হাজার ৬শদ ১২টি, ঝুলন্ত পায়খানা ব্যবহারকারী ৭শ’ ৪৮টি পরিবার। বাহাড়া ইউনিয়নে অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২হাজার ৭৯টি, ঝুলন্ত পায়খানা ব্যবহারকারী ৫শ’ ৮০টি পরিবার এবং শাল্লা ইউনিয়নে অস্বাস্থ্যকর পায়খানা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২হাজার ৬শ’ ২৩টি, ঝুলন্ত পায়খানা ব্যবহারকারী ৬শ’ ১৮টি পরিবার।

সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের পাশে প্রায় ৩০টি খোলা পায়খানা রয়েছে। এই সব খোলা পায়খানার পাশেই রয়েছে ৩টি পুকুর। পায়খানার ময়লা গড়িয়ে গিয়ে মিশেছে পুকুরের পানিতে। আবার ওইসব পুকুরে গোসল করতে এবং কাপড় কাচতে দেখা গেছে অনেককেই। পাশেই খেলা করছে কোমলমতি শিশুরা। বৃষ্টি হলেই ওইসব খোলা-ঝুলন্ত পায়খানার মল পুকুরের পানিতে মিশে একাকার হবে। যার ফলে স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে এলাকার মানুষ। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের সরমা, শরিফপুর, ইয়ারাবাদ, নিজগাঁও, আটগাঁও গ্রামেও দেখা গেছে এসব খোলা পায়খানার ব্যবহার।

এব্যাপারে মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজল মিয়ার বলেন, এটা আমাদের দীর্ঘদিনের পরিবেশ। বাড়িতে জায়গা থাকলেও অনেকেই হেমন্তে বাড়ির নিচে খোলা পায়খানা তৈরি করে।

একই অবস্থা দেখা গেছে উপজেলার শাল্লা ইউনিয়নের সহদেবপাশা, দামপুর, চব্বিশা, পাড়াখালি, সীমেরকান্দা, রৌয়া, আদিত্যপুর, খেরুয়ালা, কামারগাঁও গ্রামে। হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাও, ভোলানগর, ব্রাহ্মণগাঁও, আছানপুর, পুটকা খলাপাড়া গ্রামেও। বাহাড়া ইউনিয়নের হরিনগর, যাত্রাপুর নতুন হাটি, বাহাড়া নতুন হাটি, রঘুনাথপুর ও সুলতানপুর গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে।

জানা যায় দীর্ঘদিন থেকেই শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এসব খোলা পায়খানার ব্যবহার চলে আসছে। যদিও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্দ্যোগে সচেতনতার মাধ্যমে খোলা পায়খানার ব্যাবহার অনেকটাই কমে এসেছে। এর পরেও অনেক গ্রামেই রয়ে গেছে অস্বাস্থ্যকর খোলা পায়খানার ব্যবহার। বাড়ির আঙ্গিনায় জায়গা থাকলেও অনেকেই বাড়ির নিচে খোলা পায়খানা তৈরি করেন। এসব খোলা পায়খানার অধিকাংশই রাস্তার পাশে হওয়ায় নাক চাপ দিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারিদের।

এব্যাপারে উপজেলা ওয়াটসান কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গনেন্দ্র চন্দ্র সরকারের সাথে কথা হলে তিনি অস্বাস্থ্যকর খোলা পায়খানার জন্য আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণকেই দায়ী করেন। তিনি আরো বলেন, শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চত করতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

এব্যাপারে শাল্লা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলামের বলেন, আমাদের অফিস থেকে বিনামূলে রিং বিতরণ করা হচ্ছে। সেইসাথে মাঠকর্মীদের মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর খোলা পায়খানা ব্যবহার না করার জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারনা অব্যাহত আছে।

তিনি আরো বলেন, সুনামগঞ্জ জেলায় শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩শ’ কোটি টাকার প্রকল্প আসছে। এই প্রকল্পটি এলেই আমরা শাল্লায় শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে এপ্রতিবেদককে জনান।

বেসরকারি এনজিও সংস্থা ব্রাক এর ওয়াশ বিভাগের প্রোগ্রাম এ্যাসিসটেন্ট সীমা রাণী দাসের সাথে কথা হলে তিনি জানান আমাদের জরিপে উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৩% মানুষ জাতীয় স্যানিটেশনের আওতায় এসেছে। আমরা প্রতিনিয়ত মাঠে কাজ করছি। জনসাধারণকে স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাট্রিণ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। অস্বচ্ছল পরিবার সমূহকে আমরা বিনামূল্যে রিং দিচ্ছি।

শেয়ার করুন