১১ মার্চ ২০১৯
জেলা প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের নয় উপজেলায় এক যোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৬৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৩৫ জন প্রার্থী লড়েন। নয় উপজেলায় ৫৪১ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। তার মধ্য সহিংসতা ও জাল ভোট ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে জেলার ছয়টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফলে জানা যায়, সদর উপজেলায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা নৌকা প্রতীকে ৪০ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিষ কান্তি দে মিন্টু পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৭৬ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হোসেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দু’টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হওয়ার কারণে নিগার সুলতানা কেয়া ও সাদিয়া বখত সুরভীর ভোটের ব্যবধান কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ধর্মপাশা উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোজ্জাম্মেল হোসেন রুকন ঘোড়া প্রতীকে ৩৭ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে ২৯ হাজার ৩৭২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন।
দিরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর আলম চৌধুরী মোটরসাইকেল প্রতীকে ২০ হাজার ৯২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী নৌকা প্রতীকে ২০ হাজার ৮৬০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান মোহন চৌধুরী চশমা। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিপা সিনহা।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ফারুক আহমদ আনারস প্রতীকে ৩৫ হাজার ৪০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম নৌকা প্রতীকে ২১ হাজার ৯৪১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান নূর হোসেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দুলন রানী।
ছাতক উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান নৌকা প্রতীকে ৬৬ হাজার ১৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অলিউর রহমান বকুল কাপ পিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ২৮৩ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপি বেগম।
বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সফর উদ্দিন আনারস প্রতীকে ২৩ হাজার ২৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রফিকুল ইসলাম তালুকদার নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬০১ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান তাজ্জত খান। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার রীনা।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম নৌকা প্রতীকে ৩১ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেওয়ান তানভীর আশরাফী পেয়েছেন ২০ হাজার ১২১ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালেহা বেগম।
তাহিপুর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল নৌকা প্রতীকে ৫০ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আনিসুল হক ২৪ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন খন্দকার। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে খালেদা বেগম।
শাল্লা উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (আল-আমিন চৌধুরী) নৌকা প্রতীকে ২৪ হাজার ৯৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অবনী মোহন দাস আনারস প্রতীকে ১৯ হাজার ৩০৩ ভোট পেয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান দিপু রঞ্জন দাস। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অমিতা রাণী দাস।
এ উপজেলায় তিন কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হওয়ার কারণে তিন পদেই পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।