২৪ জুন ২০২১


রাজা ম্যানশন নিয়ে মালিক-ব্যবসায়ীদের টানাটানি

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মরমি কবি দেওয়ান হাসন রাজার নামের শেষ অংশ রাজা নাম যুক্ত করে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় গড়ে উঠা মার্কেট ‘রাজা ম্যানশন’ সিলেট সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় প্রাণহানি এড়াতে ভবনটি বন্ধ করে দিতে চান মালিকরা।

কিন্তু মার্কেটের দোকান মালিকরা অন্তরায় হয়ে আছেন। একাধিকবার রাজা ম্যানশন ছাড়ার অনুরোধ করলেও দোকান মালিকরা তা ছাড়ছেন না।

বৃহস্পতিবার নগরের দরগা গেট এলাকার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে ভবন মালিকদের পক্ষে এমন অভিযোগ করেন হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরী।

তারা রাজা ম্যানশন ভেঙে সেখানে আধুনিক বিপনী বিতান করার কথা জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি ভাড়াটিয়া দলিল অনুযায়ী নতুন ভবনের তৃতীয়তলা পর্যন্ত বর্তমান দোকান মালিকদের দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানানোর পরও তারা মার্কেট ছাড়ছেন না। তারা ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করছেন। যার কারণে মার্কেটের মালিক হিসেবে আমাদেরও আইনি ঝামেলায় ফেলছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরী জানান, দোকান মালিকরা ১৮৭টি দোকান থেকে মাসে ২৫ লাখ টাকার মত ভাড়া আদায় করেন। অথচ মালিক পক্ষকে দেওয়া হয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা। ভাড়ার অনেক টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে। ভাড়াটিয়ারা অবৈধভাবে সাব ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। তারা ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভূক্ত রাজা ম্যানশন থাকায় সম্প্রতি দফায় দফায় ভূমিকম্পের পর দশ দিন মার্কেটটি বন্ধ রাখা হলেও আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কিসের ভিত্তিতে দশদিন পর আবার খুলে দিলো তা আমাদের বুঝে আসছে না।

শমশের রাজা চৌধুরী মার্কেটের ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরে যাওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, তা না হলে মাকের্টে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মালিক পক্ষ এর দায়ভার নিবে না।

লিখিত বক্তব্যে শমশের রাজা চৌধুরী জানান, তাদের পরিবার একটি দানশীল পরিবার। জনস্বার্থে ১৯৭৫ সালে ৪২ শতক জায়গার উপর তার প্রপিতামহ হাসন রাজার নামের রাজা অংশ নাম ধারণ করে রাজা ম্যানশন তৈরী করেন তার পিতা সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরী। উত্তরাধীর সূত্রে বর্তমানে তিনি ছাড়াও তার ভাই দেওয়ান শাহীন রাজা চৌধুরী ও দেওয়ান শাহবাজ রাজা চৌধুরী ভোগ দখল করে আসছেন। অর্ধশত বছর বয়সি ভবনটি এখন আর সংস্কার উপযোগী নয়। তার পরও বতর্মানের সংস্কার কাজ শুরু করেছেন দোকান মালিকরা। ভবন মালিককে না জানিয়ে তাদের এমন কাজ করতে পারেন না।

সংবাদ সম্মেলনে শমশের রাজা জানান, গত ২১ ও ৩০ মে সিলেটে একাধিকবার ভূমিকম্প হওয়ায় আতঙ্ক দেখা দেয়। সিটি করপোরেশন ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ৩১ মে ১০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়। তারা সিটি মেয়রের সাথে সাক্ষাৎ করে ভবনটি স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। কিন্তু মেয়র কোনো আশ্বাস দেননি।
এ অবস্থায় ১৩ জুন পত্রিকায় জরুরি আইনগত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ দিনের মধ্যে ভবনটি খালি করে মালিক পক্ষকে সমঝে দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু রাজা ম্যানশন দোকান মালিক সমন্বয় কমিটির নামে একটি অবৈধ কমিটি গঠন করে তারা পাল্টা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভবনের ক্ষতি হলে দায়ভার মালিকপক্ষের উপর বর্তাবে বলে উল্লেখ করেছেন। যা আমাদের বিস্মিত করেছে। এছাড়া ভবনটি খালি না করেই দোকান মালিকরা সংস্কার শুরু করেছেন। এ ক্ষেত্রে আমদের কিছু জানানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে শমশের রাজা জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে কোনো ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়নি। কারণে এই মার্কেটের নামের সাথে ঐতিহ্য জড়িত। কিন্তু রাজা ম্যানশনের দোকান মালিকরা তাদের ঐতিহ্য ভূলন্টিত করছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দোকান মালিকদের সাথে আমাদের চুক্তি রয়েছে। চুক্তির বাইরে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নামমাত্র ভাড়া দিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করছে।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দোকান মালিকরা উল্টো সংস্কারের জন্য আমাদের চাপ দেয়। শমশের রাজা ভবনটি ভেঙে সেখান আধুনিক বিপনী বিতান করে পূর্বের ন্যায় তালিকানুযায়ী দোকান মালিকদের বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানান। পাশাপাশি তিনি রাজা ম্যানশন বন্ধ রেখে বিপর্যয়ের হাত থেকে সবাইকে রক্ষারও দাবি করেন।

 

শেয়ার করুন