২ মার্চ ২০১৯

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সাথে ৯ দিন ধরে বন্ধ আছে জগন্নাথপুরের যান চলাচল। জগন্নাথপুর উপজেলার মজিদপুর এলাকায় একটি বেইলি সেতু ভেঙে যাওয়ায় জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উপজেলাবাসী। এ অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর নামকস্থানে বেইলি সেতুটি ভেঙে পড়ায় লোকজন সেতুর নিচ দিয়ে অনাবাদি জমি দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। কেউ কেউ আবার ঝুঁকি নিয়ে ভেঙে যাওয়া সেতুর ওপর দিয়ে হেটে চলাফেরা করছে। সেতুর দুই পাশের রয়েছে ছোট ছোট কিছু যানবাহন।
এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষক রহুল আমিন বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে অসহীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে জনসাধারণ। সেতুর নিচু এলাকার অনাবাদি জমি ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে সড়কের ওপরে উঠতে হয়। তবে নয়দিন পেরিয়ে গেলেও মানুষের যাতায়াত সুবিধার জন্য এখনও বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
জগন্নাথপুরের পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি নিজামুল করিম বলেন, ৯ দিন পূর্বে সেতু ভেঙে পড়ে। এখনও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায়তে জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি মিনিবাসসহ সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য তিনি আহবান জানান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ফ্রেরুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জেলার পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের (আব্দুস সামাদ আজাদ) উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর এলাকার বেইলি সেতুটিতে অতিরিক্ত বালুবোঝাই একটি ট্রাক উঠলে সেতুটি ভেঙে পড়ে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মোস্তফিজুর রহমান বলেন, যাতায়াতের সুবিধার্থে আমরা দ্রুত বিকল্প সড়কের কাজ শুরু হয়। কিন্তু গত দুই তিনদিন ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় সড়কের কাজে বিঘ্ন ঘটে। দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে শ্রমিকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি মহাসড়কের জগন্নাথপুর থেকে পাগলা পর্যন্ত সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু আছে। সেতুগুলো ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে এ কাজ দেওয়া হয়েছে।