২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯


শহীদ মিনারে চলছে শেষমুহুর্তের প্রস্তুতি

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : রাত পোহালেই ফুলে ফুলে ভরে যাবে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার। একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন সর্বস্তরের মানুষ। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় পালিত হবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

প্রতিবছর একুশের প্রথম প্রহরে হাজারো মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধায় নগরীর সব পথ গিয়ে মেশে নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে। সাতষট্টি বছর আগে এই একুশে ফেব্রুয়ারিই তো এক কাতারে এনে দাঁড় করিয়েছিল সব ধর্ম আর পেশার মানুষকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একুশ মিশে গেছে এ দেশের মানুষের আবেগ, অনুভূতি আর শিহরণে। পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা। প্রতিবছর বিশ্বের নানা প্রান্তে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করা হয়।

এবার বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের মতো সিলেটের নানা আয়োজনে দিনটি পালন করার প্রস্তুতি চলছে। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে সিলেটের সুরমা নদীর পাড়স্থ সম্মিলিত নাট্য পরিষদের মহড়া কক্ষের সামন থেকে নগ্নপায়ে প্রভাত ফেরি নিয়ে শহিদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে একুশ ফেব্রুয়ারির কার্যক্রম। এরপর একে একে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বিকেলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এদিকে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে ধুয়ে মুছে প্রস্তুত করা হয়েছে সিলেটের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মূল বেদিসহ আশপাশ এলাকা। বরাবরের মতো এবারও সিলেটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনসাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। আর এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেট।

এ ব্যপারে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের পরিচালনায় সিলেটের কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। একুশের প্রথম প্রহরে সিলেটের সুরমা নদীর পাড়স্থ সম্মিলিত নাট্য পরিষদের মহড়া কক্ষের সামনে থেকে নগ্নপায়ে প্রভাত ফেরি নিয়ে শহীদমিনারে এসে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে একুশে ফেব্রুয়ারির কার্যক্রম। এরপর পর্যায়ক্রমে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

একুশে ফেব্রুয়ারি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রন্তুতি। পুরো শহিদমিনার এলাকা আনা হয়েছে সিসিটিভির আওতায়। রয়েছে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য ও টহলটিম। এছাড়াও নিরাপত্তায় র‌্যাবের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে একুশের শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তিন স্থরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ ও টহলটিম দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য পুরো শহিদমিনার এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।

নিরাপত্তার ব্যপারে র‌্যাব-৯ এর সিনিয়র সহকারি পরিচালক (মিডিয়া) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শহীদ মিনারকে ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র‌্যাব ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা শহীদ মিনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

শেয়ার করুন