১২ ডিসেম্বর ২০২২


লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : লম্বা বাঁশের গায়ে বাঁধা বিভিন্ন আকারের পতাকা। সেই লাল সবুজের পতাকায় সাঁটা বাঁশ নিয়ে পথে পথে ফেরি করে বেড়াচ্ছেন। বাতাসে পত পত করে উড়ছে সেই পতাকা। পতাকা ফেরিওয়ালার থেকে লাল সবুজের পতাকা কিনছেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষ। প্রতি বছর ডিসেম্বর তথা বিজয়ের মাস এলেই এমন ভ্রাম্যমাণ লাল-সবুজের ফেরিওয়ালাদের দেখা মেলে।

চলারপথে লাল-সবুজের ফেরিওয়ালারা নিজেকে নিজেই সাজিয়ে রাখেন দেশের জাতীয় পতাকায়। পতাকার পাশাপাশি বিক্রেতার কাছে ছোট ছোট কাঠিতে ফ্লাগ এবং মাথায় ও হাতে পতাকা খচিত ব্যান্ডেনা। অনেকেই কিনছেন এসব ব্যান্ডেনা।

মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা চত্বরে কথা হয় পতাকা বিক্রেতা যুবক সাহেল মিয়া জানান, জেলার সমশেরনগর উপজেলা থেকে এখানে এসেছেন পতাকা ফেরি করতে। দীর্ঘ দশ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারির সময় পতাকা বিক্রি করেন।

তিনি বলেন, আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি, কিন্তু বছরের তিনটি জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকা নিয়ে বের হই। এ সময় পতাকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াই। এবার নিজের এলাকাতেই আছি।

সাহেল মিয়া জানান, তার বাঁশে সাটানো রয়েছে ছোট বড় ও মধ্যম সাইজের পতাকা। দামেও একেক রকম। বড় পতাকার মূল্য ৩০০ টাকা, মধ্যম ২৫০ টাকা ও ছোট পতাকার মূল্য ১৫০ টাকা। তবে ক্রেতারা দরদাম করে কিনেন পতাকা।

এছাড়াও ছোট পতাকা ১০ টাকা, মাথার ফিতা ১০ টাকা আর হাতের ব্যান্ড বিক্রি করছেন ৫০ টাকা করে। গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার বিক্রি হয় বলে জানান ভ্রাম্যমাণ এই বিক্রেতা।

পতাকা নিতে আসা তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী তনুশ্রী বলেন, ‘দুটি ছোট পতাকা ২০ টাকায় কিনেছি, বড় ভাইয়ের সঙ্গে ১৬ ডিসেম্বর পতাকা হাতে নিয়ে স্কুলের মাঠে বিজয়ের অনুষ্ঠান দেখতে যাব।’

বাসার ছোট ছোট বাচ্চাদের জন্য ছোট পতাকা, হাত ও মাথার ব্যান্ড কিনেছেন জানিয়ে ফল ব্যবসায়ী বাছিত মিয়া বলেন, ‘আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৮০ টাকা দিয়ে একটি পতাকা নিয়েছি। বিজয়ের মাসে দেশের প্রতি সম্মান জানাতেই এই পতাকা কেনা।’

সিএনজি অটোরিকশার চালক আব্দুর রহমান জানান, তিনি তার গাড়ির জন্য ৬টি ছোট পতাকা এবং সন্তানের জন্য হাত ও মাথার ব্যান্ড নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে নিজের গাড়িকে লাল সবুজের পতাকায় সাজাতে খুবই ভাল লাগে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক তপন পালিত জানান, স্বাধীনতার উত্তরসূরী নতুন প্রজন্ম। তাদের মননে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের বীজ বপনে সাংস্কৃতিক জাগরণ প্রয়োজন। এজন্য শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা জরুরি। দেশাত্মবোধের পাশাপাশি যারা পতাকা বিক্রি করেন, পতাকা নিয়ে হাঁটেন। তাদের কথা চিন্তা করেও শিক্ষার্থীসহ অনেকে পতাকা কিনছেন। এই চর্চার মধ্যে দিয়ে দেশাত্মবোধের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি মমত্ববোধ বাড়বে আগামী প্রজন্মের।

শেয়ার করুন