১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিশেষ প্রতিবেদক : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিলেটের ৫ উপজেলায় সতন্ত্রের মোড়কে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির ১০ নেতা। এনিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সোমবার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে সিলেটের ১২ উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায়ই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মোড়কে সিলেটের ৫টি উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতারা। কয়েকটি উপজেলায় বিএনপির একাধিক নেতাও প্রার্থী হয়েছেন।
সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে ১২টি উপজেলার মধ্যে ৮টিতেই জয়ী হন বিএনপিজোটের প্রার্থীরা। তবে আসন্ন নির্বাচনে প্রত্যেক উপজেলায় হেভিওয়েট প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা প্রার্থী হননি। এমনকি বিএনপির সাথে থাকা জোটে জামায়াতের ২জন বর্তমান চেয়ারম্যান থাকলেও তারা জোটের সিদ্ধান্তে এবার প্রার্থী হননি। তবে বিএনপির কিছু ‘সুবিধাভূগি’ নেতা এবারের নির্বাচনে সতন্ত্রের মোড়কে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বিএনপি।
জানা যায়, সিলেট সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি নেতা শাহজামাল নুরুল হুদা ও মাজহারুল ইসলাম ডালিম সতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিশ্বনাথ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোহাম্মদ সুহেল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নেতা ওহিদুজ্জামান ছুফি। বালাগঞ্জ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আবদাল মিয়া ও গোলাম রাব্বানী।
গোয়াইনঘাটে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ ভাপতি লূৎফুল হক খোকন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্বপন। গোলাপগঞ্জে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাওলানা রশিদ আহমদ।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২৩ দলীয় জোট ও বিএনপি যেখানে কেন্দ্রীয় ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোন নির্বাচনে না যাওয়ার সেখানে কিছু সংখ্যক ‘ক্ষমতালোভী’ নেতার প্রার্থী হওয়া দলের জন্য মোটেও সুখকর নয়। তারা আসলেই দলের লোক কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ আজকের সিলেটকে বলেন, বিএনপির হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সরকারের অধিনে আর কোন প্রহসনের নির্বাচনে যাবে না। এজন্য শুধু সিলেট নয় সারাদেশেই বিএনপির কোন প্রার্থী নেই। যারা সতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তারা যদি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করেন তবে দল তাদের বিরোদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে।