৩১ জানুয়ারি ২০১৯

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ৩য় শ্রেনীর ছাত্র নবী হোসেন ।সে জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বোড়খারা গ্রামের হেলাল মিয়া ছেলে। অসচ্ছল ও অসচেতন পরিবারে জন্মগ্রহণ হয় তার। লেখাপড়ায় মনযোগী হলেও পরিবারের দারিদ্রতার কারণে সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। বাবার সাথে যেতে হয় হাওরে মাছ ধরতে।
তবে বিষয়টি অবগত হয়ে ঝরে পড়া এই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়মুখী করলেন ঐ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে তৃতীয় শ্রেণীতে উত্তির্ণ হয় সে। তবে বাবার সাথে নিয়মিত মাছ ধরার কাজে সহযোগীতার কাজের কারণে সে এখন বিদ্যালয়ে আসে না। নবী হোসেনের বিদ্যালয়ের না আসার কারণ শিক্ষকরা জানলেও তাকে স্কুলগামী করতে কোন পদক্ষেপ নেননি। তবে এব্যাপারটি তাহিরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত হলে ঐ শিক্ষার্থীর খোঁজ নিতে তাৎক্ষণিকভাবেই প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন ও শ্রেনী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে নবী হোসেন এর বাড়িতে যান।
সেখানে গিয়ে কথা হয় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, হাওরে মাছ ধরার কাজে সহযোগিতা করতে নবী হোসেনকে তার বাবা প্রতিদিনই সঙ্গে নিয়ে যান। এ জন্য সে স্কুলে যেতে পারে না। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, নবী হোসেনের ভাল ভবিষ্যত তৈরী করতে বিভিন্ন পরামর্শ ও তাকে পুনরায় স্কুলগামী করতে যে কোন ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। শিক্ষা কর্মকর্তার কিছু পরামর্শ ও আশ্বাসে সন্তানকে বিদ্যালয়ে না পাঠানোর ভুল বুঝতে পারে তার মা ও বাবা।
শিক্ষার্থী নবী হোসেন জানায়, সে বাবার সঙ্গে প্রতিদিন মাছ ধরার কাজে যেত। বাবা বলছেন আমাকে এখন থেকে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হবে। আমি প্রতিদিন স্কুলে যাব।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি জাহান বলেন, পারিবারিক দারিদ্র্যতা ও অসচেতনতার কারনে ছাত্রটি ঝরে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। বিষয়টি তার বাবা মাকে বুঝিয়ে বলার পর তারা আমায় কথা দিয়েছে এখন থেকে প্রতিদিনই তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠাবে।