২৮ জানুয়ারি ২০১৯


মোকাব্বির-মনসুরকে নিয়ে বিব্রত ঐক্যফ্রন্ট

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বাইরে ঐক্যফ্রন্টের যে দুই জন জিতেছেন, তাদের বক্তব্য নিয়ে জোটের অন্য নেতারা বিব্রত। সিলেট-২ আসন থেকে জয়ী মোকাব্বির খান এবং মৌলভীবাজার-২ আসনের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পক্ষে। অথচ জোটের অবস্থান হলো, কেউ শপথ নেবেন না।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী স্বয়ং তার দলের হয়ে ভোটে লড়া দুই নেতার সমালোচনা করছেন।

তিনি বলেন, আমরা কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি নাই। ওনারা (নির্বাচিত দুইজন সংসদস সদস্য) আকুল হয়ে গেছেন। আকুল হতেই পারেন। ওনারা তো শুধু গণফোরামের প্রার্থী নন, তারা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। সেটাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে কারচুপি আখ্যা দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা শপথ নেবেন না বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই জোটের বিজয়ী সংসদ সদস্য মোট আট জন। এদের ছয় জন বিএনপির এবং দুই জন গণফোরামের।

বিএনপি এরই মধ্যে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে কোনো ভোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বর্জন করেছে শপথ অনুষ্ঠান।

তবে শপথ নেওয়ার সময় এখনো পেরিয়ে যায়নি। বিধান অনুযায়ী সংসদ প্রথম অধিবেশনে বসার ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার সুযোগ আছে। একাদশ জাতীয় সংসদ প্রথম অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে আগামী বুধবার। সে হিসাবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সুযোগ আছে।

এর মধ্যে সুলতান মনসুর খোলাখুলি বলেছেন, জনগণ তাকে ভোট দিয়েছে সংসদে গিয়ে কথা বলার জন্য। আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ভোট পেয়ে কথা না বললে জনগণকে অবজ্ঞা করা হয়।

মোকাব্বির খান জানিয়েছেন, তিনিও শপথ নেওয়ার পক্ষে। তবে যেহেতু সময় আছে, তাই আরো অপেক্ষা করবেন।

দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্যের এই অবস্থান জোটে কোনো ধরনের মতভেদ তৈরি করবে কি না- এমন প্রশ্নে সুব্রত চৌধুরী বলেন, সেটাতো আপনিও বোঝেন, আমিও বুঝি। তবে আমরা এখনই শপথ নেব না, শপথ নিয়ে এই সংসদকে বৈধতা দেব না আমরা। তবে সময় আছে, ৩০ তারিখ যদি সংসদ বসে। সে দিন থেকে আরও ৯০ দিন সময় পাব শপথ নেওয়ার জন্য। সময় আছে দেখা যাক। এখনও আমাদের শপথ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় নাই, আগেরটাই (শপথ নেবে না) বহাল আছে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হলো শপথ না নেওয়া। তারা যদি (গণফোরামের দুইজন) শপথ নেন, তবে আমরা যেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, সেটাই নেব। আমরা এই শপথ নেওয়ার পক্ষে না। শপথ নেয়ার মানেই হচ্ছে, যে ভোট ডাকাতি হয়েছে তার বৈধতা দেয়া। তারা যদি শপথ নেয় তবে আমরা সকলেই বসে সিদ্ধান্ত নেব।

ঐক্যফ্রন্টের মধ্যস্থতাকারী গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কেউ শপথ নেবে না, এটাই সিদ্ধান্ত। তার আগে যদি কিছু হয়ে থাকে, আমি জানি না। ঐক্যফ্রন্ট এখনও সংসদে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় নাই। আজ মনে হয় কামাল হোসেন আসবেন। ওনি আসলে আমাদের মিটিং এ সিদ্ধান্ত হবে, ওই সিদ্ধান্তের বাইরে কোন কিছু হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেনের দাবি, সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির শপথ নেবেন কি নেবেন না এ বিষয়ে তিনি জানেন না। এ সম্পর্কে তার ধারণা নেই।

আর শপথ নিলে ঐক্যফ্রন্টে কি প্রভাব পড়বে এ বিষয়টিও আমি বলতে পারব না- এ বিষয়ে প্রশ্নে মোশাররফের জবাব ছিল এমন।

শেয়ার করুন