১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯


দুশ্চিন্তায় হাওরের কৃষকরা

শেয়ার করুন

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ছোট বড় ছয়টি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) কর্তৃক কাবিটা ৫২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পসমূহ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৮৫ ভাগ প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত, নদী খাল পুন:খননের জন্য কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি করছে। গত ২ দিনে উপজেলার ৬টি হাওরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড, শ্রমিক বা নিজস্ব কোন প্রতিনিধি দেখতে পাওয়া যায়নি। হালির হাওরে ২৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৩টি, শনির হাওরে ৮টি প্রকল্পের মধ্যে ২টি, পাকনার হাওরে ১২টির মধ্যে ৩টি ছাড়া, মিনি পাকনার হাওরে ১টি, মহালিয়া হাওরে ৫টি ও জোয়াল ভাঙ্গা হাওরে ১টি সহ ৪৪টি প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু হয়নি।

কাজ শুরু না করার কারণ সম্পর্কে অধিকাংশ পিআইসির সভাপতি জানান, প্রকল্প বরাদ্দ ও অর্থ ছাড় পেতে অনেক বেগ পেয়েছেন। কয়েকদিন হলো টাকা পেয়েছেন, তাই সবকিছু প্রস্তুত করে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নের সচিব নিহার রঞ্জন দাস বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ছোট বড় ছয়টি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বাপাউবো কর্তৃক কাবিটা ৫২টি প্রকল্পের পিআইসির সভাপতিকে নির্ধারিত বরাদ্দের ২০ভাগ অর্থ ১৫দিন আগেই ছাড় দেয়া হয়েছে। কোন কোন পিআইসির সভাপতি প্রকল্প হস্তান্তর করে যাচ্ছেন, এ কারণে এখনও রদবদল হচ্ছে। আমরা তাগাদা দিচ্ছি, দ্রুত কাজ শুরু হবে। অনেকে এস্কেবেটর আনতে বিলম্ব হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে জামালগঞ্জ উপজেলায় পাকনার হাওর,হালির হাওর, মিনি পাকনা, শনির হাওর, মহালিয়া হাওর ও জোয়াল ভাঙ্গাঁ হাওরসহ ৬টি ছোট বড় হাওরের ৫২টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বিগত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১০০ টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১৭ কোটি টাকা। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে (চলতি বছরে) হালির হাওরে ২৫ টি, জোয়াল ভাঙ্গাঁয় ১টি, মহালিয়ায় ৫টি, শনির হাওরে ৮টি, মিনি পাকনা ১ টি, পাকনার হাওরে ১২টি পি আই সি গঠন করা হয়েছে। মোট ৫২টি পি আইসির মধ্যে প্রায় ৪০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো চলছে পিআইসির রদবদল।

উপজেলার ২৭ হাজার কৃষক জমি রোপণের কাজ শেষ করলেও বাঁধের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায়, আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল হারানোর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

হাওর বাচাঁও সুনামগঞ্জ বাচাঁও আন্দোলনের সহ -সভাপতি ও উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, ইউসুফ আল আজাদ বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধের মাটির কাজ সম্পন্ন করে ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পূর্ণ না করলে জনগণকে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে চিহ্নিত পি আই সি র বিরুদ্ধে দুদকে মামলা করা হবে।

তিনি বলেন, কৃষকদের জীবন নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বাপাউবো কর্তৃক কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামীম আল ইমরান বলেন, আমরা প্রথম দফার অর্থ ছাড় দিয়েছি। কাজ শুরু হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে সকল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে ও নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করতে পারব। কেউ অবহেলা করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন