১৭ জানুয়ারি ২০১৯

শুয়াইব হাসান (অতিথি প্রতিবেদক) : কথা দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সিলেটবাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬-লেনে উন্নীত করা এবং ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলযোগাযোগ উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। মন্ত্রী হয়েই এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সিরিয়াস হয়ে গেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
৮ জানুয়ারী দায়িত্ব গ্রহণ করার পর মন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম ডিও লেটার ইস্যু করেছেন সিলেটের রেলযোগাযোগের উন্নয়নে। বৃহস্পতিবার রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বরাবরে তিনি এ ডিও ইস্যু করেন।
মোমেন সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় চারদফা পদক্ষেপ নিতে রেলপথ মন্ত্রীকে এই ডিও পাঠান বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. শাহরিয়ার।
এরই মধ্য দিয়ে সিলেটবাসীকে দেওয়া নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগের উন্নয়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- ১. জরুরীভিত্তিতে চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে প্রচলিত ট্রেনসমূহে আরামদায়ক উন্নতমানের নতুন বগি সংযোজন, একই রুটের প্রতিটি ট্রেনে অন্তত দু’টি করে এয়ারকন্ডিশন কোচ এবং এয়ারকন্ডিশন কার সংযোজন। দ্বিতীয়ত, সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন একটি সরাসরি ট্রেনের যোগাযোগ চালুকরণ। তৃতীয়ত, সিলেট-ঢাকা রুটে ব্রডগেজ বা ডুয়েলগেজ (যেটি তাড়াতাড়ি সম্ভব) চালু করা। এবং চতুর্থত, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সিলেট-ঢাকা ‘বুলেট ট্রেন’ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
রেলপথ মন্ত্রীকে ইস্যু করা এই পত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিলেট বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক, প্রবাসীসমৃদ্ধ ও অন্যতম পর্যটন জনপদ। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর সংখ্যক দর্শনার্থী এবং অন্যান্য পেশাজীবী এ অঞ্চলসমূহে ভ্রমণ করেন। কিন্তু, আধুনিক রেলসেবা না পাওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এবং এ কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে গত বছর বৃহত্তর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলামকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে প্রতিমাসে বিশেষ একটি দিনে চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিলামে চট্টগ্রাম থেকে ১৫০ থেকে ১৮০ নিলাম ডাককারীরা শ্রীমঙ্গলে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেন এয়ারকন্ডিশন কমপার্টমেন্ট না থাকার কারণে এই সকল ডাককারীকে চট্টগ্রাম থেকে বিমানযোগে ঢাকা, পুনরায় বিমানযোগে সিলেট হয়ে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে যেতে হয়। এ অবস্থায় সিলেটে রেলসেবা আরো উন্নত করার লক্ষ্যে উপরোক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জোর দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশের রেলপথ ও রেলসেবার মানের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ রেলসেবার এই সুফল ভোগ করলেও সিলেটবাসী অনেকাংশেই বর্তমান এই উন্নত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনসমূহে পুরাতন কোচ বা বগিসমূহে সেগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এর ফলে সিলেটগামী রেলযাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তাই, এই অঞ্চলের গুরুত্ব বিবেচনা করে দুই রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের উন্নত রেলসেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী ইতোমধ্যে নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেট-১ আসনের উন্নয়নে একশ’ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী একশ’ দিনের মধ্যে ডিজিটাল সিলেট এর কার্যক্রম শুরু হবে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বুধবার সিলেটে সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে চলমান প্রকল্পসমূহ দ্রুত শেষ করে অনুমোদিত প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন।