৬ জানুয়ারি ২০১৯


রঙিন মাছে মুগ্ধ হবেন দর্শনার্থী

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রঙিন মাছ দেখতে কার না ভাল লাগে। আর সেটা যদি হয় জেন্ত আর চোখের সামনে। এদিক-ওদিক ছুটছে পানিতে। চোখের সামনে লেজ নারিয়ে খেলা করছে। এ যেনো এক অন্যরকম পরিবেশেই না আপনাকে নিয়ে যাবে। দর্শনার্থীদের এমন একটি দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে যাচ্ছে বন বিভাগ। আর সেটি দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সিলেটে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে। তবে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও এক মাস।

আগামী এক মাসের মধ্যে ৮ ফুট উচ্চতা অ্যাকুরিয়ামের মত বড় একটি উঁচু পানির হাউজ তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেই হাউজের অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। অবয়ব তৈরি শেষ হয়েছে। এখন পাথর দিয়ে এটিকে সাজিয়ে হাউজের উপরে কাঁচ লাগানোর কাজ বাকি রয়েছে। কাজ শেষ হয়ে গেলেই সেখানে বিদেশী রঙিন মাছ রাখা হবে।

শনিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে টিলাগড়স্থ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, মাছ রাখার জন্য সুমন মিয়া নামের নির্মান শ্রমিক পাথর লাগানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত এক মাস যাবত এই পানির হাউজের কাজ শুরু হয়। তবে পাথর না থাকায় কয়েকদিন কাজ বন্ধ ছিল। পাথর আসার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে আবারও পানির হাউজের কাজটি শুরু হয়।

নির্মান শ্রমিক সুমন মিয়া বলেন, মাছ রাখার জন্য এই হাউজটি তৈরি করা হচ্ছে। এক মাস আগে কাজ শুরু হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও এক মাস সময় লাগবে। কাজ শেষ হলেই মাছ এনে রাখা যাবে না। কিছুদিন পানি ভর্তি করে সেটা পাল্টাতে হবে। নয়তো সিমেন্ট এর গ্যাসে মাছ সব মরে যাবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মুনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শুরুতে প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা করেছিলাম। বর্তমানে সেটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়ে গেছে। শীঘ্রই আমরা এখানে রঙিন মাছ আনবো। উঁচু করে অ্যাকুরিয়ামের মতো একটি অবয়ব তৈরি হচ্ছে। সেখানে রঙিন মাছ আনা হবে। সেগুলো পানির উপর দিয়ে ভাসবে। এটি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে।

সিলেটে গত ২ নভেম্বর নয় প্রজাতির ৫৮টি প্রাণী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয় সিলেট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি। ওইদিন প্রাণী দর্শনে টিলাগড় ইকোপার্কে ছুটে আসেন হাজারো দর্শনার্থী। সকলেই বেশ আনন্দিত ছিলেন।

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেটের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রকেই বেছে নেওয়া হয়। ১১২ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত এই সংরক্ষণ কেন্দ্রটি। সংরক্ষণকেন্দ্রটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরণের পরিকল্পনা করছে সিলেট বন বিভাগ। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আরও কয়েকটি হরিণ আনারও কথা রয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্র জানায়।

এছাড়া দেশীয় জলজ পাখিসহ আরও বেশ কিছৃু প্রাণী আনা হয়েছে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুনিরুল বলেন, আমরা সংরক্ষকেন্দ্রটিকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি। আশা করি ধীরে ধীরে এটাকে সমৃদ্ধ করতে পারবো। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর নয় প্রজাতির ৫৮টি নতুন প্রাণী গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে নিয়ে আসা হয় সিলেট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে। নয় প্রজাতির প্রাণীগুলো মধ্যে রয়েছে জেব্রা ২টি, হরিণ ২টি, ময়ুর পাখি ১২টি, গোল্ডেন ফিজেন্ট পাখি ৩টি, সিলভার ফিজেন্ট পাখি ১টি, ম্যাকাও পাখি ৩টি, আফ্রিকান গ্রে পেরট ৪টি, অন্য প্রজাতির পেরট ৪টি, ছোট লাভ বার্ড পাখি ৩০টি ও অজগর সাপ ১টি।

এর দুইদিন পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেন ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেন সংরক্ষণ কেন্দ্রটি।

শেয়ার করুন