১২ আগস্ট ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট : মৌলভীবাজারের জেলার কুলাউড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি বিস্ফোরক ও ৫০টির মতো ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। ‘অপারেশন হিল সাইড’ নামের এ অভিযানে এখন পর্যন্ত নারী-শিশু মিলিয়ে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামে নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়েছিলেন তারা।
আটককৃত ‘জঙ্গিরা’ হলেন- সাতক্ষীরা জেলার সদর থানার দক্ষিণ নলতা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী আমিনা বেগম (৪০), তার মেয়ে মোছা. হাবিবা বিনতে শফিকুল (২০), কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার কানলা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাফিজ উল্লাহ (২৫), নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার রসুলপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২২), খায়রুলের স্ত্রী মেঘনা (১৭), সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর থানার মাইজবাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রাফিউল ইসলাম (২২), পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের স্ত্রী শাপলা বেগম (২২), নাটোর জেলার সদর থানার চাদপুর গ্রামের সোহেল তানজীম রানার স্ত্রী মাইশা ইসলাম (২০) ও বগুড়া জেলার শরিয়াকান্দি থানার নিজবলাই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী মোছা. সানজিদা খাতুন (১৮)।
এছাড়া হেফাজতে নেওয়া তিন শিশু হচ্ছে- নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার রসুলপুর গ্রামের খায়রুল ইসলামের মেয়ে আবিদা (১), পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে হুজাইফা (৬) ও জুবেদা (১৮ মাস)।
শনিবার অভিযান শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা জঙ্গি আস্তানায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ কেজি বিস্ফোরক ও ৫০টির মতো ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। যা দিয়ে গ্রেনেডসহ হাই এক্সপ্লোসিভ তৈরি করা হয়।’
গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গি আস্তান থেকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। এছাড়া ৩ শিশুও ছিল।জঙ্গি আস্তানা থেকে জঙ্গিদের পাশাপাশি আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার রাতে কুলাউড়া উপজেলার ওই আস্তানাকে ঘিরে রাখে টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি চৌকস দল। শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। এতে সিটিটিসি ইউনিটকে সহযোগিতা করে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ ও কুলাউড়া থানা পুলিশ।
অভিযান দলটির প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল নতুন একটি উগ্রবাদী সংগঠন ব্যাপক সংখ্যক লোকদের উগ্রবাদের দীক্ষা দিচ্ছে। সেসব লোকজন হিজরতের জন্য ঘর থেকে বের হয়েছেন। শুরুতে আমাদের কাছে তথ্য ছিল মৌলভীবাজারের যেকোনো একটি পাহাড়ে তারা তাদের আস্তানাটি গেড়েছেন। গতকাল আমরা চূড়ান্ত তথ্য পাই। আটক ১০ জনের বাড়ি দেশের বিভিন্ন এলাকার।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, ঢাকায় আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। যিনি এই জঙ্গি আস্তানা থেকে তার পরিবারকে আনার জন্য গিয়েছিলেন। আস্তানায় ১০জনকে বিনা বলপ্রয়োগে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তাদের কাছে থেকে ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণ সামগ্রী; কমব্যাট বুট, বক্সিং ব্যাগ এবং কয়েক বস্তা জিহাদি বই জব্দ করা হয়েছে। এটি নতুন একটি সংগঠন, এর নাম ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’।
তিনি বলেন, দেশে যেসব নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আছে, সেগুলোর বাইরে এটি একটি নতুন সংগঠন। এই সংগঠনের যে মূল ব্যক্তি তার নামও আমরা পেয়েছি। আশা করি, তার পর্যন্ত পৌঁছাতে আমরা সক্ষম হব।