১০ এপ্রিল ২০২২
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : বেঁচে আছেন মোমিনা বেগম। কিন্তু কাগজপত্রে তিনি এখন মৃত। নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচন অফিসে ঘুরে এখন ক্লান্ত এই মানুষটি। দীর্ঘ দিনেও নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে না পাড়ায় রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।
অভিযোগ উঠেছে- উপজেলা নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলার মুক্তাপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল মতিনের স্ত্রী মোমিনা বেগম। তিনি জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মুক্তাপুর গ্রামের বাসিন্দা। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার স্বামীর নাম আবদুল মতিন। তবে নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে তিনি মৃত হিসেবেই চিহ্নিত।
ভুক্তভোগী মোমিনা বেগম বলেন, ২০০৮ সালের ৮ জুলাই তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র পান। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন তিনি মৃত। পরে বিষয়টি যাচাই করতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসের দ্বারস্ত হন মোমিনা বেগম। নির্বাচন অফিসে গিয়ে জানতে পারেন তাদের তথ্যে তিনি মৃত। তারপর হতেই নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে আবেদন নিয়ে নির্বাচন অফিস ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
মোমিনা বেগম আরও বলেন, আমি এখনো জীবিত আছি। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তার কাগজপত্রে আমি মারা গেছি। নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে নির্বাচন অফিসের আবেদন করেছি। বছর পেরিয়ে গেলেও কোন কাজ হচ্ছে না। আমি নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হাসানাতের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরণ করে অফিস হতে বেরিয়ে যেতে বলেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হাসানাত বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় ভুল হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। ভোক্তভোগীর সাথে আমি খারাপ আচরন করিনি। তার আবেদনের পর লিখিতভাবে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি।