১০ ডিসেম্বর ২০১৮


‘ধানের শীষ’ নিয়ে সিলেট বিএনপিত অসন্তোষ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট অঞ্চলে ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। জোটের মনোনয়নে ক্ষুব্দ হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীও হয়েছেন শরিক দলের নেতারা। তবে বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধীতা না করে ধআনের শীষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন।

মনোয়নবঞ্চিত নেতাকর্মী ও বিএনপির মনোনয়নে যুক্ত একাধিক জরিপ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, সামগ্রিকভাবে মনোনয়নবণ্টনে সাফল্য দেখালেও সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬ টি আসনে যোগ্যপ্রার্থী নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। এক্ষেত্রে মনোনয়নবোর্ডের বিরোদ্ধে বণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

মনোনয়ন বঞ্চিতরা বলছেন, বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডে অঘোষিত একটি সিন্ডিকেট হয়েছে, যারা প্রার্থী নির্ধারণ করতে গিয়ে নিজেদের বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিচারের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেছেন, তাদের দায়ী করা হচ্ছে সুবিবেচনা না করার অভিযোগেও। এসব কারণে দলে দীর্ঘদিন সক্রিয় ও আনুগত্য প্রদর্শন করেও সংস্কারপন্থীদের কাছে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন দল ও জোটের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতারা, যাদের মধ্যে কেউ-কেউ ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসা নিতে যেতে হয়েছে আইসিওতে।

সংস্কারপন্থী নজির হোসেন সুনামগঞ্জ ১ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন পাননি সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। ইতোমধ্যে সিলেটের একটি হাসপাতালে মিলনকে ভর্তি হতে হয়েছে।

মিলনের ব্যবসায়ীক পার্টনার ও সিলেট-২ আসনে ২০ দলীয় জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, কলিম আহমেদ মিলন এখন বাসায় আছেন। তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হলেও নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, গত ১০ বছরে সুনামগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি টিকিয়ে রাখার পেছনে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নেতাটি কলিম উদ্দিন মিলন। জেলার সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি জনপ্রিয়। এছাড়া সংস্কারপন্থী নজীর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলার পরবর্তী রাজনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সিলেট ৫ ও ৬ আসনে প্রার্থী নির্ধারণেও বিএনপি ভূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিলেট ৫ আসনটি অযথাই জমিয়তকে দেয়া হয়েছে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন অথবা আশিক চৌধুরীর অবস্থান তুলনামুলক অনেক ভালো। সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল আহমদ চৌধুরী জনবিচ্ছিন্ন। ইতিমধ্যে এই আসনটিতে বিএনপির অপর তিন মনোনয়ন প্রাত্যাশী সংবাদ সম্মেলন করেও বিষয়টি জানিয়েছেন।

সিলেট বিভাগের একটি জেলার সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, ৫ জনের ওই সিন্ডিকেট অন্তত ৫০ আসনে মনোনয়নবাণিজ্য করেছে। ক্ষমতায় আসতে পারবে কিনা, এটা বিষয় নয়, তাদের কাছে বাণিজ্যই প্রধান ছিল।

সিলেট বিএনপির এক নেতার অভিযোগ, সিলেট-সদর আসনে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে সরিয়ে আবদুল মুকতাদির চৌধুরীকে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সিলেট বিভাগের বিএনপির নেতাকর্মীদের মানসিকতা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সিলেট সদর ও সিলেট-৬ আসনের মনোনয়ন সরাসরি লন্ডন থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণায় এই দু’টি আসনের মনোনয়ন নির্ধারণের খেসারত বিএনপিকে দিতে হতে পারে।

হবিগঞ্জ-২ আসনে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনকে না দিয়ে খেলাফত মজলিসের আবদুল বাসিত আজাদকে ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে। যদিও বিএনপির যুক্তি, হবিগঞ্জ-৪ ও ২ আসনে বিএনপি কখনোই বিজয়ী হয়নি। একই কারণে রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমানকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী হওয়া কঠিন।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাহের শামীম বলেছেন, দলীয় মনোনয়ন দিতে এই ভূল সিদ্ধান্তের প্রভাব অনেক বেশি ভয়ঙ্কর এবং বিএনপিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে। আমরা বলতে পারি হতাশ। আমাদের মন খারাপ। পরবর্তী সময়ে দলকে অবশ্যই ভুগতে হবে।

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, যারা লন্ডন থেকে এসেছে, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। আমরা ২০ বছর ধরে পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের মূল্যায়ন করা হয় না।

শেয়ার করুন